নড়াইল প্রতিনিধি :
নড়াইলে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রনতোষ কুমার সেনের বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা দীপিকা বিশ্বাসের অবৈধভাবে পাসপোর্ট ও ভিসা গ্রহণ করে বিনা অনুমতিতে বিদেশ গমনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত প্রতিবেদনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা দীপিকা বিশ্বাস সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলেও পাসপোর্টে পেশার তথ্য গোপন করে ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করে পাসপোর্ট তৈরি করেন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতে যাতায়াত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রনতোষ কুমার সেন তদন্ত শুরু করেন এবং ৪ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু অবৈধভাবে পাসপোর্ট ও ভিসা গ্রহণ করে বিনা অনুমতিতে বিদেশ গমনের তথ্য থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রনতোষ কুমার সেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দোষী ব্যক্তিকে নির্দোষ এবং নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষী করার বহু নজির রয়েছে। তার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নড়াইল জেলার প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
দীপিকা বিশ্বাসের পাসপোর্টে দেখা যায়, সরকারি চাকরির পরিবর্তে ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করে বিএল-০৪৬১৯## নম্বর পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি ২০১৭ সালের ১২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালের ২৪ মে থেকে ৭ জুন ও ১৬ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ সালের ১০ মে থেকে ১২ জুন এবং ২০ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে যাতায়াত করেন। পরবর্তীতে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে ২০২১ সালে আবারও এ-০১০৯৫৭## নম্বর পাসপোর্ট গ্রহণ করে ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ১০ মে ও ২৩ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০২৩ সালের ২১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ভারতে যাতায়াত করেন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে তিনি নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রনতোষ কুমার সেনের কাছে তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি তার ছুটির বিষয়ে তদন্ত করেছি। পেশা গৃহিণী উল্লেখ করে অবৈধভাবে পাসপোর্ট গ্রহণের বিষয়টি তদন্ত করা হয়নি। প্রয়োজন হলে বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করা হবে।”