জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
সারা দেশে জাল শিক্ষকরা তাদের পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্দ্বিধায়। তবে বিভিন্ন সময়ে জাল শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করলেও ব্যবস্থা নেয়ার তালিকাটি ছোট। এই ব্যবস্থা নেয়ার ধারাবাহিকতায় কেউ-কেউ এমপিও হারাচ্ছেন, কেউবা হচ্ছেন সাময়িক বরখাস্ত। তবে এবার নজিরবিহীন ঘটনা যুক্ত হয়েছে শিক্ষকদের অনিয়মের তালিকায়।
পদত্যাগ করার পরও ১৯ মাস ৬ দিনের বেতন তুলে এমপিও হারিয়েছেন এক মাদরাসা শিক্ষক। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মধ্য কাশিপুর দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী মো. আমিনুল ইসলাম মিয়া। তার এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় ওই মাদরাসার সুপারকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরো একজন মাদরাসা শিক্ষক ও একজন কর্মচারীর এমপিও বাতিল করা হয়েছে। তাদের এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে বেতন-ভাতা ফেরত দিয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে।
বুধবার মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আলাদা চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মো. আমিনুল ইসলাম মিয়ার এমপিও বাতিল সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার মধ্য কাশিপুর দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী মো. আমিনুল ইসলাম মিয়া বর্তমানে একই উপজেলার দাসিয়ারছড়া দাখিল মাদরাসার সুপার পদে কর্মরত আছেন। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে ছিটমহল বিনিময়ের পর মো. আমিনুল ইসলাম মিয়া দাসিয়ারছড়া দাখিল মাদরাসার সুপার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। মধ্য কাশিপুর মাদরাসা থেকে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে পদত্যাগ করেন। মধ্য কাশিপুর মাদরাসায় কর্মরত না থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জুলাই থেকে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৯ মাস ৬ দিনের বেতন ভাতা (এমপিও) উত্তোলন করেছেন। মো. আমিনুল ইসলাম মিয়া (ইনডেক্স: R2006528) বর্তমানে মধ্য কাশিপুর মাদরাসায় কর্মরত না থাকা সত্ত্বেও তার নামে এমপিও যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মো. আমিনুল ইসলাম মিয়া সহকারী মৌলভী পদের ইনডেক্স কর্তন করা হলো। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জুলাই থেকে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৯ মাস ৬ দিনের অতিরিক্ত উত্তোলিত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে মাদরাসা অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। মো. আমিনুল ইসলাম মিয়া ১৯ মাস ৬ দিন কর্মরত না থাকা সত্ত্বেও ইনডেক্স কর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় মধ্য কাশিপুর মাদরাসা সুপারের বেতন ভাতা কেন বন্ধ করা হবে না তা আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দেয়ার জন্য বলা হলো।
অপরদিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরইহাট সিদ্দিকিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসায় গবেষণাগার-ল্যাব সহকারী মো. তামিম মুন্সীর এমপিও বাতিল করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, মো. তামিম মুন্সী ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ অক্টোবর নিয়োগপত্রের মাধ্যমে একই বছরের ২৭ অক্টোবর যোগদান করেন এবং ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর এমপিওভুক্ত হন যার ইনডেক্স নম্বর M0077151। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী গবেষণাগার, ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে ল্যাব চালু থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বরইহাট সিদ্দিকিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসায় কোনো ল্যাব না থাকা সত্ত্বেও অবৈধ উপায়ে গবেষণাগার, ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর ১৮.১ (গ) এবং (চ) অনুযায়ী গবেষণাগার-ল্যাব সহকারী মো. তামিম মুন্সীর এমপিও কর্তন করা হলো।
এমন পরিস্থিতিতে মো. তামিম মুন্সী গবেষণাগার-ল্যাব সহকারীর এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উত্তোলন করা বেতন-ভাতা চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।
অপরদিকে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলাধীন মরাকান্দি নছিমুন্নেছা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী হাবিবুর রহমানের এমপিও বাতিল করা হয়।
এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, সহকারী মৌলভী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ৩১৪৩০৫৫৭ রোল নম্বর সম্বলিত দাখিল করা সনদ জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়।
এর প্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর ১৮.১ (গ) এবং (৩) অনুযায়ী এই শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স কর্তন করা হলো।
এমন পরিস্থিতিতে হাবিবুর রহমানের এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উত্তোলন করা বেতন-ভাতা চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হলো।