.জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের পারমল্লিকপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ দ্বন্দ্বের জেরে মৃধা গ্রুপের সাথে ঠাকুর গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ঠাকুর গ্রুপের ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনার জেরে ঠাকুর গ্রুপের লোকজন মৃধা গ্রুপের লোকজনের অন্তত ১২ টি বাড়িসহ মুদির দোকান ভাংচুর-লুটপাট করেছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে পারমল্লিকপুর গ্রামের মিজু কাজীর বাড়ির সামনে হিসাম কাজীর চায়ের দোকানের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঠাকুর গ্রুপের ৪ জন আহত হয়। এরই জের ধরে ঠাকুর গ্রুপের লোকজন রাতে এবং পরদিন সকালে মৃধা গ্রুপের লোকজনের বসত বাড়িতে এবং মুদির দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে।
আহতরা হলেন, লোহাগড়া উপজেলার পার মল্লিকপুর গ্রামে মৃত মোশাররফ কাজীর ছেলে হিসাম কাজী, মৃত রায়হান উদ্দিন মোল্যার ছেলে শরীফুল মোল্যা, ইউসুফ মোল্যার ছেলে অপু, সাহিদ কাজীর ছেলে বুলু কাজী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পার মল্লিকপুর গ্রামে মৃধা গ্রুপ ও ঠাকুর গ্রুপের মধ্যে বিবাদমান দ্বন্দ্ব নিয়ে বহুবার মারামারিসহ খুনের ঘটনাও ঘটেছে। দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব মিটমাটের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেকবার শালিসি বৈঠক হয়েছে। কিছুদিন আগেও লোহাগড়া থানা চত্বরে পুলিশ সুপারসহ রাজনৈতিক, সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মিমাংসা করা হয়। মিমাংসা হওয়ার পরেও মাঝেমধ্যে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এ ঘটনায় ঠাকুর গ্রুপের লোকজন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, তাদের লোকজন মিজু কাজীর বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে প্রতিদিনের ন্যায় সবাই বসে চা খাচ্ছিলো। এসময় মৃধা গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মৃধা গ্রুপের লোকজন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ঠাকুর গ্রুপের লোকজন আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। আমাদের লোকজন বিএনপি করে বলে বলে দীর্ঘ ১৬ বছর আমাদের ওপর জুলুম নির্যাতন করেছে। তারা আমাদের ফাসানোর জন্য নিজেরা নিজেরা মারামারি করে আমাদের ওপর দোষ চাপাতে চাচ্ছে। তারা বলেন আমাদের কোন লোকজন ওই মারামারি ঘটনায় জড়িত নয়। তারা অভিযোগ করে আরও বলেন রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঠাকুর গ্রুপের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে টপি শেখ, চঞ্চল শেখ, ইসরাফিল শেখ, কালাম শেখ, আলিম কাজী, লাবলু মোল্লা, বাবুল মোল্যা, নজরুল শেখ, রইস কাজী, মোস্তাক শেখ, তারিকুল ফকির, হাফিজ শেখ, জাকির মৃধার দোকান ও বাড়ি ভাংচুর করে লুটপাট চালিয়ে দোকানে থাকা নগদ অর্থ, চাল, মেনারেল ওয়াটার নিয়ে যায় এবং বসত বাড়ি থেকে গরু, ছাগল, হাস, মুরগী, টিউবওয়েল নিয়ে যায়।
পার মল্লিকপুর গ্রামে সহিংস ঘটনার পর লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান ও পুলিশ পরিদর্শক
(তদন্ত) অজিত কুমার রায়সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।