নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের আসাদনগর এলাকায় ভুয়া উপজেলা সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে আব্দুল জব্বার নামে এক যুবককে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয়রা। তিনি মনোহরদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা বলে জানা গেছে।
আজ সকালে আসাদনগরের ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, আসাদনগরের একটি নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে ভবনের মালিকের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন জব্বার। নিজেকে ‘উপজেলা সমন্বয়ক’ পরিচয় দেওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা জব্বারকে আটক করে ব্যাপক মারধর ও জুতাপেটা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই গণধোলাইয়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই জব্বার নিজেকে ভুয়া সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে মনোহরদীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে আসছেন। জুলাই বিপ্লবের পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। উপজেলা প্রশাসন, থানা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদেরও ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেও তার নেতৃত্বে একটি গ্যাং নিয়মিত চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হলে মনোহরদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতির ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে জব্বার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, জব্বার রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় একটি ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছেন এবং চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।