সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে পাথর লুটপাটে বাধা দেওয়ায় এক তরুণ ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ এমাদ আহমদ (২১) হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে এবং তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন।
রোববার (২৫ মে) কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটি, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর ফটোগ্রাফি ক্লাব, সাদাপাথর পর্যটন ইঞ্জিন চালিত নৌকার মাঝি যুব সমিতি এবং ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, “যেসব সাহসী তরুণ সম্প্রতি ভোলাগঞ্জে পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন, তাদের ওপর হামলা চালানো গভীর উদ্বেগজনক। এটি শুধু ব্যক্তি নিরাপত্তার ওপর নয়, বরং আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টার ওপর এক নির্লজ্জ আঘাত।”
তারা আরও বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং বিশ্বাস করি, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন, সাদাপাথর পর্যটন ইঞ্জিন চালিত নৌকার মাঝি যুব সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আইনুল ইসলাম, সেক্রেটারি মঈনুদ্দিন, ক্যাশিয়ার বাবুল মিয়া, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলা শাখার সদস্য জুবায়ের আহমেদ ইমরান, কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি ফখর উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার সুমন, সহ-সভাপতি জাবেদ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলম, মেহরাব হোসেন মিন্নত, সিমায়, রাসেল, সাচ্চা মিয়া, আক্তার হোসেন রাফি, ইব্রাহিম, কাউছার, স্বপন, খোকন শর্মা, জুবায়ের, রিফাত এবং ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর ফটোগ্রাফি ক্লাবের আফজাল হোসেন, জামিল, বারেক, তানজিল, পাভেল, মোহাইমিন, মহিবুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শনিবার (২৪ মে) দুপুরে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে কয়েকজন ফটোগ্রাফার, দোকানদার ও পর্যটক পাথর লুটপাটে বাধা দিলে বারকি শ্রমিকদের একটি দল তাদের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালাইরাগ এলাকা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ফটোগ্রাফার এমাদ আহমদ লালপাথর হাজির বাগান এলাকায় পৌঁছালে চার যুবক তার ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ৪জনের নাম উল্লেখ করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আহত এমাদ আহমেদ।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।