ডেস্ক:
দক্ষিণ সুরমার শীর্ষ জুয়াড়ী নজরুলের জুয়ার আস্তানায় সাংবাদিকের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় আহত সাংবাদিক বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায় ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩ টায় স্থানীয় সাপ্তাহিক হলি সিলেট পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল আলিম রানা শীর্ষ জুয়াড়ী নজরুল পরিচালিত নতুন রেলওয়ে ষ্টেশনের প্রবেশ মূখে জুয়ার আস্তানার ছবি তুলতে গেলে ৪০/৫০ জন জুয়াড়ী একত্রে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। এসময় তাহার সাথে থাকা অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ টিভির দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সংবাদদাতা সালমান জামান অবস্থা বেগতিক দেখে সাংবাদিক রানাকে বাঁচাতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত ওসামানী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে ভর্তি করেন।
এব্যপারে মুঠোফোনে আহত সাংবাদিক রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে হুমায়ূন চত্বর থেকে কীনব্রিজের দিকে সালমান জামানকে নিয়ে যাচ্ছিলাম নতুন রেলওয়ে ষ্টেশনের প্রবেশ মূখ পার হয়ে দেখতে পাই সিটিএসবি’র পরিচিত একভাই নজরুলের জুয়ার বোর্ডের পাশে দাড়ানো। তাকে দেখে আমিও মোটরসাইকেল দাঁড় করি। তখন তিনি আমাকে বলেন দেখ কিভাবে প্রকাশ্যে জুয়াখেলা হচ্ছে। তখন তিনি কদমতলী ফাঁড়ির আইসি আবুল হোসেনকে মোবাইল ফোনে জুয়ার বিষয়টি অবগত করেন। এই ফাকে আমি ভিডিও করতে গেলে নজরুল জুয়াড়ীদের বলে এই শালাকে ধর বলেই আমার জ্যাকেটের কলারে ঝাপটে ধরে সাথে সাথে ৪০/৫০ জন জুয়াড়ী আমাদের দুজনের উপর হামলা করে। এসময় সিটিএসবির ভাই দৌড়ে পালায় আর তখন সুহান ওরফে নাইজেরিয়া লোহার রড দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে আঘাত করে তখন আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এই ফাকে জটলার মধ্যে কে বা কারা আমার জ্যাকেটের পকেট থেকে একটি স্যামসং মোবাইল, নগদ ৫৬,০০০/ ছাপ্পান্ন হাজার টাকা, পরনের জ্যাকেট টেনে হিচড়ে খুলে নিয়ে যায়। পরে সালমান জামান আমাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসে। ও না থাকলে আমাকে মেরে ফেলতো।
এ ব্যপারে দক্ষিণ সুরমা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য কিছুদিন আগে ডিবি পুলিশ আরেক শীর্ষ জুয়াড়ী হারুনকে তাহার ফেরিঘাটের জুয়ার আস্তানা থেকে ৮জুয়াড়ী সহ আটক করে। সেই সংবাদ তালাশ এবং হলি সিলেটে প্রকাশিত হলে জুয়াড়ী হারুন তালাশের হাসান জুলহাস এবং হলি সিলেটের আব্দুল আলিম রানাকে মোবাইলে হত্যার হুমকি দেয়। সেই অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে।
গত জুলাই মাসে জিঞ্জিরশাহ মাজারের পাশে আরেক শীর্ষ জুয়াড়ী আবুল কাশেম এর জুয়া ও মাদক আস্তানার সংবাদ প্রকাশ করলে আবুল কাশেমও জুয়াড়ীদের মাধ্যমে হাসান জুলহাস ও আব্দুল আলিম রানাকে হত্যার হুমকি দেয়।
সেপ্টেম্বর মাসে কীনব্রিজের নীচের জুয়ার ছবি তুলতে গেলে র্যাবের সোর্স পরিচয়দানকারী আকাশ দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এরপর সংবাদ প্রকাশিত হলে মোবাইলে তাহের, নজরুল, জামাল, কামাল, মজনুু এই দুই সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় রানার উপর হত্যার উদ্দেশ্য হামলা।
এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত সাংবাদিক রানা ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধী আছেন। চিকিৎসা শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।