নড়াইল প্রতিনিধিঃ
নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের ১৬৫ নং দক্ষিন বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফালী বেগমের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত চলছে।দ্বারে দ্বারে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে আর কখনও দূনীতি করবো না বলে শেষ বারের মতো ক্ষমা চাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক শেফালী বেগম। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার ১৬৫ নং দক্ষিন বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিবাবকবৃন্দ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফালী খানমের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষারমান ও পরিবেশ ধংসের দ্বারপ্রান্তে মর্মে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাড়পত্র বাবদ ৫০০/-(পাঁচশত) টাকা ও শিশু শ্রেণিতে ভর্তিতে ৫০/-(পঞ্চাশ)টাকা ও প্রথম শ্রেণিতে ১০০/-(একশত) টাকা গ্রহণ, নিয়মিত সমাবেশ না হওয়া, মাঝে মাঝে সমাবেশ হলেও প্রধান শিক্ষক সমাবেশে অংশগ্রহন না করে অফিসে বসে থাকেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে টয়লেট পরিস্কার করানোসহ টয়লেটে পানি তোলানো, বিদ্যালয়ের নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল পেড়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, অভিবাবকদের সাথে দূব্যর্বহার করাসহ ১১টি বিষয়ে অভিযোগ করেন। প্রধান শিক্ষকের পছন্দের স্থানীয় সহকারি শিক্ষককে মোঃ ইমলাক হোসেন ও লাবণী খানমের সহযোগীতায় এ সব অপকর্মগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন।এমন কি ঐ পছন্দের শিক্ষকরা স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতা বাসায় নিয়ে স্বাক্ষর করেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমীক সুপারভাইজার সজল কুমার বিশ্বাসকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। গত ১৪ আগষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা সজল কুমার বিশ্বাসক প্রধান শিক্ষক শেফালী বেগমকে অভিযোগের কপি সরবরাহ করেন।এরপর প্রধান শিক্ষক শেফালী বেগম দ্বারে দ্বারে গিয়ে অভিযোগকারী ও এলাকাবাসীর কাছে আর দূনীতি করবেন না বলে শেষ বারের মতো ক্ষমা চাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করে অভিভাবকেরা বলেন, প্রধান শিক্ষক শেফালী বেগমের নামে আগেও অভিযোগ করা হয়েছিল তখনও মাফ চেয়েছিল।এবার আবার পা ধরে আর কখনও দূনীতি করবো না বলে শেষবারের মতো ক্ষমা চাচ্ছেন।আরও বলছেন আপনাদের ছেলেমেয়েদের এক অক্ষর পড়ালেও তো পড়ায়ছি সেই কারনে আমাকে ক্ষমা করেন। ১৭ আগষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা সজল কুমার বিশ্বাস সরেজমিনে গেলে প্রধান শিক্ষক শেফালী বেগম সকলের সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থণা করেন। অভিভাবকেরা এই দূর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক শেফালী বেগমের শাস্তিসহ অনতিবিলম্বে বদলীর দাবি করেন। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল বাসার বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি । অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।