হৃদয় এস সরকার:
একটি সম্ভাবনাময় প্রাণের অকাল প্রয়াণে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে যুক্তরাজ্য ও ঘোটা নরসিংদী। ছেলেটি বহি: বিশ্বের বুক উঁচু করে বাংলাদেশের নাম গৌরবের স্থানে নিয়ে যাচ্ছিল। মাত্র ২২ বছর বয়েসে যুক্তরাজ্য শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তুখোড় ছাত্রনেতা, চৌকুষতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে যুক্তরাজ্যের মতো দেশে রাজনীতি করেছে সে। দেশ ও দশের জন্য চিন্তায় মগ্ন থেকেছে। অসহায়, অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো পাশে থাকতেন সব সময়। যে যুবকটি তার মেধা, দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা দিয়ে সময়ের পালাক্রমে একদিন অনেক বড় স্থানে পৌঁছাত। সেই সম্ভাবনাময় যুবকটি নেই আজ ৮ বছর চলছে। যার মৃত্যুতে শোক উড়ে বহির বিশ্বের, শহরে ও শিবপুর উপজেলায়। পরিবারের মানুষের বুকের ভেতরে নেমে যায় রিদারুণ যন্ত্রণা। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ বেদনায় ডুকরে কেঁদে উঠে। প্রতিমুহূর্তে স্বজন হারানোর বেদনায় হাহাকারে ভেসে যায় পরিবারে সদস্যদের অন্তর।
যার কথা বলছিলাম সে, মাহমুদুল হাসান ভূইয়া (রাজীব) সাবেক যুক্তরাজ্য শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
১৯৯১ সালে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল মান্নান ভূইয়া (কমান্ডার)।
যুক্তরাজ্য শাখা ছাত্রলীগের সাবেক, আওয়ামীলীগ ও নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগের একাধিক সিনিয়র নেতারা বলেন, ছাত্রনেতা মাহমুদুল হাসান ভূইয়া রাজীব নরসিংদী তথা শিবপুরের কৃতিসন্তান, একজন হাস্যজ্জল ভালো মনের মানুষ ছিল। সে প্রতিটা শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে খুব অল্প সময়ে মিশতে পারতো। রাজনীতি তার রক্তে ছিল। দয়ালু ও উদার মনের মানুষ রাজিব। খুবই অল্প বয়েসেই যুক্তরাজ্য মতো একটি জায়গায় সে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পায়। রাজীব যখন মঞ্চে উঠে বস্তুনিষ্ঠ বক্তৃতা দিতো তখন আমরা শুধু একমনে শুনতাম, দারুণ বক্তা ছিল। মানুষের বিপদে ঝাপিয়ে পড়তো। দরিদ্র মানুষের পাশে সবসময় থাকতো। আজ রাজীব থাকলে অনেক বড় রাজনৈতিক নেতা হতো। দেশ ও দশের জন্য কাজ করে যেতো। আমরা তাকে হারিয়ে মর্মাহত। একটি রত্নহারালো বাংলাদেশ। এখনও বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি রাজীবের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তায়।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।