স্টাফ রিপোর্টার, সিলেটঃ
লোকাল গভন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি)’র অন্তর্ভুক্ত সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দিগলবাক – ঢেউনগর গ্রামের মুরাদের বাড়ির সম্মুখ হতে মস্তকিন আলীর বাড়ি পর্যন্ত গোপাট নামক রাস্তার ১৮০ ফুট সিসি ঢালাই নির্মাণ কাজে ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান এরশাদ এর বিরুদ্ধে সিডিউল বহির্ভূত ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, লোকাল গভন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি)’র আওতাভুক্ত ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ২ লক্ষ, ৬৬৯ টাকা ব্যয়ে উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দিগলবাক- ঢেউনগর গ্রামের মুরাদের বাড়ির সম্মুখ হতে মস্তকিন আলীর বাড়ি পর্যন্ত গোপাট নামক রাস্তার দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট, প্রস্থ ৭ ফুট ও পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি সিসি ঢালাই কাজের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের দায়িত্ব পায় ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান এরশাদ। সে সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ করেছে।
সিডিউল অনুযায়ী সরকারি কাজে এক নাম্বার ইট (কংক্রিট) এর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না দিয়ে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজে নিন্মমানের ইট (কংক্রিট) ও মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তার সাইড কাটিং, প্লেইনিং, বেডে বালু, রুলিং ও ঢালাই কাজে পরিমাণ মত সিমেন্ট না দিয়ে এবং পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি করার কথা থাকলেও তা না করে এরস্থলে ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি করা হয়েছে। সিডিউলের নিয়ম ভঙ্গ করে কাজ শেষ করায় উক্ত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তা কর্ণপাত করেনি। বরং তাদের প্রতি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ এরশাদ মেম্বার। এতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ থমথমে অবস্হা বিরাজ করছে।
রাস্তার ঢালাই নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করায় তার বিরুদ্ধে বিয়নীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির ১নং ওয়ার্ড সভাপতি হাজী আব্দুল মুকিত, স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিত্ব এমাদ উদ্দিন, আশোক উদ্দিন, শাহেদ আহমদ ও দিগলবাক গ্রামের আবুল কালাম, গৌছ উদ্দিন শিপন সহ অনেকেই। লোকাল গভন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট- ৩ (এলজিএসপি)’র কাজগুলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়নে সরকারি ভাবে এমন নির্দেশনা থাকলেও এ’নির্দেশনা অনুসরণ না করে প্রভাবশালী-দুরন্ধর এই মেম্বার নিজেই প্রকল্প বাস্তায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তদারকি কর্মকর্তা উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আক্তার হোসাইনকে এ কাজের বিষয়ে অবগত না করে এবং তার অনুমতি ছাড়াই সিডিউল বহির্ভুত ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করে দুরন্ধর প্রকৃতির এই মেম্বার। রাস্তার কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি কারার হীন উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্কীম সুপারভিশন ও ওয়ার্ড কমিটি তার নিজের লোকদিয়ে গঠন করে। আর এই কু-উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে স্কীম সুপারভিশন ও ওয়ার্ড কমিটি কর্তৃক ২টি প্রত্যয়নপত্র যা প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে গ্রহণপূর্বক স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান- মেসার্স এবাদ এন্টারপ্রাইজ এর নাম ব্যবহার করে ঠিকাদারী কাজের বিল উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছে।
এ বিষয়ে শেওলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢেউনগর গ্রামের সাহিদুল ইসলাম লাভলু সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উক্ত রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে আমি শুনেছি। উন্নয়ন কাজে এমন ভাবে দুর্নীতি হলে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা রয়েছে তা বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উন্নয়ন কাজে এ’ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজদের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ বাতিল করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান না করলে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে আমি মনে করি।
শেওলা ইউনিয়ন পরিষদের টানা দুইবারের সফল চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ওয়ার্ড কমিটি ও সুপারভিশন কমিটির প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার পর বিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করি। পরে স্হানীয় লোকজনের মাধ্যমে উক্ত রাস্তার কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে মর্মে জানতে পেরেছি।আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি তদারকী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে জানিয়েছেন, উক্ত রাস্তার কাজের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেননি এইমাত্র আমার কাছ থেকে জানতে পেরেছেন রাস্তাটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কবে রাস্তার কাজ শুরু হলো এবং কবে শেষ হয়েছে এ প্রকল্পের আমি তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে বিধি মোতাবেক আমাকে অবগত করে এবং আমার অনুমতি নিয়েই কাজ শুরু করার নিয়ম অথচ সে বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমি এখনই সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবো।
উক্ত প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আক্তার হোসাইন বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমি সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করেছি। তদন্তে রাস্তার কাজে অনিয়ম ধরা পড়েছে। আমি তাৎক্ষণিভাবে সিডিউল অনুসরণ করে পুনঃরায় রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার জন্য মাহমুদুল হাসান এরশাদ মেম্বারকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছি। সিডিউল অনুযায়ী রাস্তার কাজটি সম্পন্ন না করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।