রুহুল আমীন তালুকদার :
সিলেট নগরীর কুচাই গ্রামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার শিকার গৃহবধূর স্বামী সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানার অধিন লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এলাকাধীন সরষপুর গ্রামের মৃত গাজী মিয়ার ছেলে ও বর্তমানে কুচাই গ্রামের ভাড়াটিয়া জাবেদ মিয়া (৫০) বাদী হয়ে গত ২০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এসএমপি’র মোগলাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত হলো- এসএমপি’র মোগলাবাজার থানার, সিটি কর্পোরেশনের ৪০নং ওয়ার্ডের কুচাই গ্রামের মৃত মাহমদ আলী ওরফে মহিউদ্দিন এর ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (৪০)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, নগরীর কুচাই গ্রামের বাসিন্দা নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টাকারী জাহাঙ্গীর মিয়ার ভাইয়ের বাসায় দুই মাস ধরে স্বপরিবারের বসবাস করছেন অভিযোগকারী জাবেদ মিয়া। তার পাশাপাশি অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মিয়ার ঘর থাকায় এই সুযোগে সে প্রায়ই জাবেদ মিয়ার স্ত্রীর সাথে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতো।
অভিযোগকারী জাবেদ মিয়া পেশায় একজন ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যবসার কাজে বাড়ির বাহিরে থাকায় গত ১৭ অক্টোবর নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টার শিকার তার স্ত্রী ঔষধের জন্য স্থানীয় একটি ফার্মেসীতে যায়। ঔষধ কিনে রাত ১১টায় তার ঘরের সামনে আসলে জোরপূর্বক তাকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর তার ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় জাবেদ মিয়ার স্ত্রীকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে নিজেকে রক্ষা করতে দস্তাদস্তি করে। জাহাঙ্গীর ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে কিল ঘুষি মেরে মারাত্মক বেদনাদায়ক নিলাফুলা জখম করে এবং জাবেদ মিয়ার স্ত্রীর পড়নের কাপড় ছিড়ে তার স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত ও মুখ দিয়ে স্পর্শ করে শ্লীলতাহানী করে। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীরকে ধাক্কা মেরে ঘর থেকে বের হয়ে পড়লে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর কাঠের রুল দিয়ে তার ঘরের সামনে নির্মমভাবে বেদড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে অভিযোগকারী জাবেদ মিয়ার স্ত্রীকে। এসময় তার আত্মচিৎকার শোনে প্রতিবেশিরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসতে থাকলে জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় জাবেদ মিয়ার স্ত্রী ঘটনার বিষয়ে কারো কাছে বিচার প্রার্থী হলে কিংবা মামলা মোকাদ্দমা করলে তাকে প্রাণে হত্যা করে ফেলবে বলে হুমকী দিয়ে চলে যায়।
এ ঘটনার বিষয়ে মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামসুদ্দোহা পিপিএম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগকারী জাবেদ মিয়ার স্ত্রীকে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগটি থানায় প্রাপ্ত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০২০) এর ৯ (৪) (খ) তৎসহ প্যানাল কোড এর ৩২৩/ ৫০৬ ধারা মতে এজাহারগণ্যে মামলা রজু করা হয়েছে। যাহা থানার মামলা নং ১২ তাং- ২০/১০/২০২২ইং। ঘটনার পর পরই আসামী জাহাঙ্গীর মিয়া পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।