রুহুল আমীন তালুকদার :
সিলেটের বিয়ানীবাজারে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঈদগাহ’র রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনায় উপজেলার শেওলা ইউনিয়নে ঢেউনগর গ্রামের মৃত মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তোয়াহিদুর রহমানের ছেলে সাহেদ আহমদ এর দায়েরকৃত মামলায় উপজেলার শেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য ২টি অপহরণ-ধর্ষণ মামলা সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় একাধিক মামলার আসামী মাহমুদুল হাসান এরশাদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
২০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এই মামলার স্বাক্ষী শামীম আহমদ, রাবেল আহমদ, হাজেরা ইয়াসমিন বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর আগে মামলার বাদী সাহেদ আহমদ ও তদন্তকারী কর্মকর্তা সুরঞ্জিত কুমার দাস একই আদালতে ভিন্ন-ভিন্ন তারিখে স্বাক্ষী প্রদান করেছেন। এ মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের ১৫ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। সাক্ষ্য প্রদানকৃত ৫ জনকে আসামী পক্ষের আইনজীবী জেরা করেন। এর মাধ্যমে বর্ণিত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালের ১ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিয়ানীবাজার থানার (ওসি তদন্ত) জাহিদুল হক উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দিগলবাক গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলীর ছেলে মাহমুদুল হাসান এরশাদ ও তার ৩৯জন সহযোগীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্যানাল কোর্ড ১৮৬০ এর দন্ডবিধি আইনের ১৪৩/ ৩২৩/ ৩২৫/ ৩০৭/ ৫০৬ ধারা মতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নং-৪, বিয়ানীবাজার, সিলেটে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতের বিচারক অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার কার্যের নিমিত্তে ২০১৯ইং সালের ২১আগস্ট/ মামলাটি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করেন। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামলটি গ্রহণ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকার্যের আদেশ দেন।
২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় শেলিয়া বাজার সংলগ্ন শেওলা শাহী ঈদগাহ- মহিলা মাদরাসার সামনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঈদগাহ’র রাস্তাকে কেন্দ্র করে মাহমুদুল হাসান এরশাদ ও তার সহযোগীরা মামলার বাদী সাহেদ আহমদ এর ভাই-ভাতিজা সহ অন্যান্য স্বাক্ষীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মামলার বাদী সাহেদ আহমদ এর পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এমন অভিযোগ এনে বাদী সাহেদ আহমদ গত ১৯ জানুয়ারি বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। যাহা বিয়ানীবাজার থানার মামলা নং- ০৯, জিআর- ০৯/২০১৯ইং।
প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা গেছে, মাহমুদুল হাসান এরশাদ অত্যান্ত উগ্র, দাঙ্গাবাজ, ভূমিখেকো, নারী লিপ্সু ও দলবদ্ধ মাস্তান প্রকৃতির লোক। সে ধনে জনে বলে বলিয়ান ও এলাকার প্রভাবশালী এবং পাশাপাশি ইউপি সদস্য হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহারসহ আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে একের পর এক অপরাধ-অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তার কয়েকটি মামলার আমলনামা তুলে ধরাহলো বিয়ানীবাজার জিআর-৫৬/২২ইং, সিআর-১৫৯/২১ইং, দক্ষিণ সুরমার ননজিআর- ১৫/২০২২ইং এবং নারী ও শিশু ৫১৬/২০১৯ইং নং মামলা সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত সহ বিভিন্ন আদালতে মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক বার কারাভোগও করেছে মাহমুদুল হাসান এরশাদ। তার স্বভাব চরিত্র ভাল নয়। সে অত্যান্ত জঘন্য ও ভয়ংকর প্রকৃতির লোক। তৃণমূল পর্যায়ে এমন ঘৃণিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে জনসাধারণ সেবার পরিবর্তে ক্ষতি সাধিত হওয়ার আশঙ্কায় বেশি বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। তাই এরশাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিলেটের স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন ২নং ওয়ার্ডের সচেতন জনসাধারণ অনেকেই।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।