রাকিব হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট পাটগ্রাম জোংড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ককোয়া বাড়ি এলাকায় প্রায় চারমাস আগে ভুট্টা ক্ষেতে সুস্থ সবল আদরের কন্যা ফারজিনা আক্তারের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মা খতেজা বেগমের চাপা আর্তনাত আজও থামেনি। এই জননী অনেকটাই মানসিক বিকারগ্রস্তের দ্বারপ্রান্তে।
মেয়েটির লাশ পাওয়ার এই আলোচিত ঘটনার আজও কোনো কিনারা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফারজিনা আক্তার ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী। তার সহপাঠী ও শিক্ষকেরাও ধারণা করছেন তাকে জোর করে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। তবে ফারজিনার রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উন্মোচন হোক এমনটাই প্রত্যাশা করেন এলাকাবাসী।
লাশ উদ্ধারকে ঘিরে লোকজনের বর্ণনাও ছিল ভয়াবহ। মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল এমন আলামত লাশ উদ্ধারের সময় এলাকাবাসী ও পরিবার দেখেছিল বলে জানান। সেসময় তারা জানিয়েছিল, মেয়েটির গলায় ওরনা কয়েকভাবে পেঁচানো ছিল। খুব সকালে খুঁজতে গিয়ে যে স্থানটিতে পাওয়া যায়নি, অথচ তার কিছুক্ষণ পরে একই স্থানে লাশ পাওয়া যায় তাও আবার ভারত সীমান্ত ঘেঁষে। তাই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় হতাশ দিশেহারা পরিবারটি। মা খতেজা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানা গেলেও খবর নিয়ে জানা যায় প্রায় মানসিকভাবে তিনি বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সারাদিন শুধু মেয়ের কথা মুখে আওড়ান আর হাত তুলে দোয়া করেন। ফারজিনা বোন ও দুলাভাইয়ের দাবি, ময়নাতদন্তের জন্য এত সময় কেনো লাগবে? চার মাস হলেও রিপোর্ট না আসায় তারা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, হয়ত ফারজিনাকে হত্যার ঘটনা কেউ ধামাচাপা দিতে চায় তাই এত দেরি হচ্ছে। তাই অসহায় এই পরিবারটি দ্রুত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ব্যবস্থা করে সঠিকভাবে যেনো দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হয় এমন দাবী করেন।
এদিকে লাশ ময়নাতদন্তের পরবর্তী মেডিকেল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান, পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।