রাকিব হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলার রাধানাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র মেরামতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রতিষ্ঠানটির জন্য বরাদ্দকৃত টাকার কোনো তথ্য দিতে পারেননি প্রতিষ্ঠান প্রধান আশরাফ আলী। গত ২৫ জুন দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের মেরামত বাবদ অর্থের প্রকৃত ব্যয়ের কোনো তথ্যই প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ হয়নি। ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া রাধানাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী জানান, ২০১৩ সালে ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা পেয়েছি আর পাইনি। কিন্তু যখন ওই অর্থ বাবদ ব্যয়ের খাত এবং রেজুলেশন বহির কথা জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি তার কোনো খাতা দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি রেজুলেশন বহি বাসায় রেখেছে বলে একে একে তিনদিন তার প্রতিষ্ঠানে গেলেও দেখাতে পারেননি এবং সেসময় পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা জুড়িয়ে দিতেন।
অবশেষে এই শিক্ষকের সন্দেহজনক আচরণে বরাদ্দকৃত সকল তথ্য অনুসন্ধান করে পাওয়া যায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুলত ২০১৩ সালের পর ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র মেরামতের বাজেট তার স্বাক্ষরেই তোলা হয়েছে। অথচ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তখনও তা অস্বীকার করেন। এক পর্যায় পাশে থাকা ইংরেজি শিক্ষক আতাউর রহমান মুকুলের কাছে জানতে চান, আমরা বাজেটটা পেয়েছি কি? আগের হিসাব ততো একটা মনে নাই, দেখতে হবে বলে পাশ কাটিয়ে প্রধান শিক্ষক আর কোনো তথ্যই উপস্থিত দেখাতে পারেননি। ওই সময় ইংরেজি শিক্ষক রেগে গিয়ে বলেন, আমাদের কাছে কেনো আসেন, অন্য প্রতিষ্ঠানে যান তারা যদি দেখায় তখন আমরাও দেখাবো।
এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেন জানান, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বাজেট তারা পেয়েছে। বিদ্যালয় প্রধান এই তথ্য দিতে বাধ্য। কেনো দেখাতে পারলো না আর কেনো মিথ্যা বললো তা আমরা জানিনা। অথচ শিক্ষা অফিসার নিজেই রাধানাথের সংরক্ষিত ইস্টিমেট, বিল/ভাউচার, প্রত্যয়নপত্র জুন ক্লোজিং’র দোহাই দিয়ে আজ কাল করে অবশেষে দেখিয়ে দেয় প্রকৌশল অফিসে খোঁজ করার জন্য। এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এল.জি.ই.ডি) মাহবুব উল-আলম জানান, শিক্ষা অফিস আমাদেরকে কেনো দেখিয়ে দেবে, তাদের কাছে সকল কপি সংরক্ষণে আছে। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পন্ন করার পর একটা কপি প্রতিষ্ঠান প্রধান, একটা আমাদের আর একটা শিক্ষা অফিসারের কাছে জমা থাকে। পরে আবারও শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে শেষ পর্যন্ত কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এই তথ্য আর পাওয়া যায় নি। মুলত প্রতিষ্ঠানটির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের ঘটনায় শিক্ষা অফিস ও প্রকৌশল অফিস উভয়ের তথ্য দিতে গড়িমশি এবং দায় এড়ানোর বিষয়টি দৃশ্যমান হয়।
প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী কিভাবে তার প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রত্যয়নপত্র নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পেয়ে গেলো ? শুধু তাই নয়, এই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সকল বাজেট বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও ব্যয়ের তথ্য আদৌ আছে কি-না, থাকলে সঠিকভাবে ব্যবহার হয়েছে কি-না তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টির পড়াশোনা, ফলাফল ইত্যাদির মান অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেকাংশে বেশ ভালো বলেও উপজেলায় বেশ জনশ্রুতি রয়েছে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।