রুহুল আমীন তালুকদার, সিলেট :
সিলেটের বিয়ানীবাজারের পৌর শহরে রাস্তায় মোটর সাইকেল সরিয়ে সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই আহত ও তাদের সাথে থাকা দুই লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়া সহ তাদের প্রাণনাশের হুমকীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ১৮ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৫টায় পৌর শহরের কলেজ গেইটের সামনে ঘটনাটি ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসারীপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান এর ছেলে মুজিবুর রহমান রাফি (২৪) ও মতিউর রহমান (৩২)। এ ঘটনার বিষয়ে মৃত হাজী সুরুজ আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন (আহতদের চাচা) বাদী হয়ে গত ২৫ এপ্রিল ৬ জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাতনামা কতেক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অফিসার ইনচার্জ হিল্লোল রায় অভিযোগটি থানায় প্রাপ্ত হয়ে বাংলাদেশ প্যানাল কোড এর ১৪৩/ ৩২৩/ ৩৪১/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩৯৭/ ৩৭৯/ ৫০৬ ধারা মতে এজাহার গণ্যে মামলা রুজু করেন। যাহা থানার মামলা নং- ১৮।
বর্ণিত মামলার আসামীরা হলো- বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউড়া ইউনিয়নের মাথিউড়া পূর্বপাড় গ্রামের ১। জহুর উদ্দিনের ছেলে সাইফ উদ্দিন উরফে হিরা (২৪), ২। কালুয়া দুদুর ছেলে রুমেল আহমদ (২২), ৩। সমছু উদ্দিন ওরফে মটনের ছেলে সুমন আহমদ (৩৫), ৪। আলাউর রহমানের ছেলে ছাইদুর রহমান (২৬), ৫। আলতা মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ (২২), ৬। সাহাব উদ্দিনের ছেলে আশফাক উদ্দিন (২২) ও অজ্ঞাতমা আরো কয়েকজন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদী দেলোয়ার হোসেনের ভাতিজা আহত মুজিবুর রহমান রাফি ও মতিউর রহমান বিয়ানীবাজার পৌর শহরের খাসারীপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ইফতার করতে ও কিছু টাকা আনার উদ্দেশ্যে গত ১৮ এপ্রিল-২০২২ইং দাসউরা বাবরবন্ধ গ্রামে নানার বাড়ি মোটর সাইকেল যোগে যাওয়ার পথে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের সরকারি কলেজ গেইটের সামনে পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে বিবাদী সুমন আহমদ বাই সাইকেল চালিয়ে হঠাৎ করে তাদের মোটর সাইকেলের সামনে পড়ে। এ সময় সুমন তাদের মোটর সাইকেল সরিয়ে সাইড দিতে বলে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সুমন উত্তেজিত হয়ে মোটর সাইকেল আরোহী মুজিবুরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় পথচারীরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু সুমন তাদেরকে দেখে নেয়ার হুমকী দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। মুজিবুর ও মতিউর তারা দাসউরা বাবরবন্ধ গ্রামে নানার বাড়িতে চলে যায়।
এরই জের হিসেবে সুমন ও তার সহযোগী সাইফ উদ্দিন উরফে হিরা, রুমেল আহমদ, ছাইদুর রহমান, আব্দুল্লাহ, আশফাক উদ্দিন সহ আরো কয়েকজন নালবহর বাজার পয়েন্টে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ওৎপেতে থাকে। মুজিবুর ও মতিউর তাদের নানা বাড়িতে ইফতার শেষে মামা দুদু মিয়ার নিকট থেকে দুই লক্ষ টাকা নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে পুনরায় নিজ বাড়ি খাসারীপাড়া আসার সময় নালবহর বাজার পয়েন্টে পৌঁছামাত্র মুজিবুর ও মতিউরের উপর সাইফ গং অতর্কিৎ হামলা চালায়।
এসময় বিবাদী সাইফ উদ্দিন তার হাতে থাকে ধারালো চাকু দিয়ে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে মুজিবুরের পিঠে ঘাই মেরে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। বিবাদী রুমেল আহমদের হাতে থাকা চাকু দিয়ে একই উদ্দেশ্যে মুজিবুরের বাম উরুতে ঘাই মেরে কাটা রক্তাক্ত জখম করে। আহত মুজিবুর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গেলে বিবাদী রুমেল ও ছাইদুর তাদের হাতে থাকা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মুজিবুরকে এলোপাথারি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক বেদনাদায়ক নিলাফুলা জখম করে। এসময় সাইফ মুজিবুরের প্যান্টের পকেটে থেকে নগদ দুই লক্ষ টাকা ও একটি আইফোন ১৩ প্রো মডেলে মোবাইল সেট, যার মূল্য এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
একই সময় বিবাদী রুমেন ও আব্দুল্লাহর হাতে থাকা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মতিউরকে এলোপাথারি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক বেদনাদায়ক নিলাফুলা জখম করে। আহত মতিউর মাটিতে পড়ে গেলে বিবাদী সুমন তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে।
এসময় মুজিবুর ও মতিউরের আত্মচিৎকারে পথচারী সহ নালবহর বাজারে উপস্থিত লোকজন ঘটানাস্থলে দ্রুত এসে কতিপয় হামলাকারীদের কলব থেকে উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুজিবুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এখন পর্যন্ত মুজিবুর আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেন।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।