মো নাহিদ হাসান নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি একটি নাম অনেক সংগ্রাম। সাধন চন্দ্র মজুমদার বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ। তিনি নওগাঁ-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন। সাধন চন্দ্রের পৈত্রিক বাড়ি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে। মধ্যবিত্ত পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। বাবা ধানের ব্যবসা করতেন। চার কন্যা সন্তানের জনক সাধন চন্দ্র। বড় মেয়ে সোমা মজুমদার ও সেজ মেয়ে কাদেরী মজুমদার ব্যাংকার, মেজ মেয়ে কৃষ্ণা মজুমদার পেশায় চিকিৎসক এবং ছোট মেয়ে তৃণা মজমুদার প্রকৌশলী। তার পরিচয় নতুন করে বলার আর কোনো অপেক্ষা রাখেনা। তাঁর অতীত জীবনের বহুমুখী কর্মের মধ্যে দিয়ে শুধু নিজ এলাকাতেই নয়, নওগাঁ জেলাব্যাপী ছাত্র – যুব – তরুণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার জনগণের নিকট অত্যন্ত প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয় একটি নাম। বাঙালি জাতির জাতিসত্তা বিকাশের রক্তঝরা দিনে ১৭ জুলাই ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মৃত কামিনী কুমার মজুমদার ও মাতা মৃত সাবিত্রী বালা মজুমদার । ষষ্ঠ শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়ে তিনি তার পিতাকে হারান । শুরু হয় প্রতিকূল পরিবেশ ও কঠিন বাস্তবতাকে মোকাবেলা করে এক স্বতন্ত্র সাধনের জীবন যুদ্ধ । সংসারের দায়িত্ব নিলেন তাঁর বড় ভাই । তাঁর বড় ভাই বিয়ে করেছিলেন চৌমুহনীতে । সেই উপলক্ষে চৌমুহনীতে তার কলেজ জীবন শুরু । চৌমুহনী কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগে যোগ দেন । পরবর্তীতে নওগাঁ ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হন । তার মায়ের স্নেহ ও উপদেশ তাঁকে রাজনীতিতে আরো অনুপ্রাণিত করেছিলো। তাঁর মা বলতেন লেখাপড়া শেষ করে জীবনে কি হবে তা জনিনা কিন্তু মানুষের মতো মানুষ হবে। দেশব্যাপী ষাটের দশকে উত্তাল শিক্ষা – আন্দোলনের পটভূমিতে বেড়ে ওঠা সাধন চন্দ্র মজুমদার ছাত্রজীবন থেকেই গড়ে উঠেন এক ভবিষ্যৎ লড়াকু নেতার চরিত্রে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিবাহিনী বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযানের সম্মুখ- যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন । বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র মজুমদার একাত্তরের সহস্ত্র স্বাধীনতার যুদ্ধ ও পরবর্তীতে দেশ পুর্ণগঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন । গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা, রাজনৈতিক নেতা- কর্মীদের নির্যাতন – নিপীড়ণের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে প্রতিবাদে সোচ্চার থেকেছেন। ছাত্র জীবন থেকেই সাধন চন্দ্র মজুমদার এর ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসী গর্ববোধ করতেন। একজন মানুষের মধ্যে যে সমস্ত গুণাবলী থাকলে তাকে অনুসরণ করে দেশ-জাতি -সমাজ ও জনগণ সামান্যতম হলেও উপকৃত হইতে পারে সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি তেমনি একজন।
ইউপি চেয়ারম্যান থেকে খাদ্যমন্ত্রী
১৯৮৪ (৮৪-৮৮) সালে নিজ জন্মভূমি হাজীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর ১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ে নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. ছালেক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের সাধন চন্দ্র মজুমদার। তবে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ডা. ছালেক চৌধুরীকেই পরাজিত করে বিজয়ী হন সাধন।
এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঐক্যফ্রন্টের মোস্তাফিজুর রহমানকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হন তিনি। এ নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯২ ভোট এবং বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৬৪ ভোট। অর্থ্যাৎ ৫৬ হাজার ২২৮ ভোট বেশি পেয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছেন।
আজ সেই মানুষটির জন্মদিন । শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ খাদ্য মন্ত্রাণলয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং ৪৬ নওগাঁ ১ এর এমপি সাধন চন্দ্র মজুমদার ।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।