নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে মাঠে নেমেছে জেলা পুলিশ। এই অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান—যিনি এখন সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত একজন বাস্তবের ‘সুপার হিরো’ হিসেবে।
দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে চলা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক কারবার ও অবৈধ অস্ত্রের মহড়া বন্ধ করে জনজীবনে ফিরিয়েছেন স্বস্তি। প্রশাসনিক কঠোরতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ—সব মিলিয়ে বদলে দিয়েছেন জেলার আইন-শৃঙ্খলার চিত্র। ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট নরসিংদীর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. আব্দুল হান্নান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জেলা জুড়ে শুরু করেন চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান।
এসপি হান্নানের নির্দেশনায় গঠিত একাধিক টিম জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরের কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। চিহ্নিত চাঁদাবাজ, হুমকিদাতা ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করে একের পর এক গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া চালু করেছে জেলা পুলিশ। তিনি পুলিশ প্রশাসনে প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্ভাবনী ভূমিকা রেখেছেন। সিসিটিভি মনিটরিং, মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক অভিযোগ গ্রহণ, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং অনলাইন সেবা চালু করে নরসিংদী জেলা পুলিশকে একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেছেন।
তিনি শুধু অপরাধ দমনেই নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাদক, ইভটিজিং ও সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করেছেন। বিভিন্ন সেমিনার, র্যালি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে তুলেছেন।
নরসিংদী সরকারি কলেজের শিক্ষক মো. রাসেল ও স্বেচ্ছাসেবক আল-আমিন রহমান বলেন, “তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলার আইন-শৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন, একজন সেবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত টিম অপরাধ দমনে সক্রিয় ও সফলভাবে কাজ করছে।”
নরসিংদী মীর ইমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক
দেবজিত আচার্য বলেন, “পুলিশ সুপার হান্নানের তত্ত্বাবধানে জেলার খুন, ডাকাতি, চুরি এবং সাইবার অপরাধ দমন কার্যক্রমে দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচার নিশ্চিত হচ্ছে। ঘটনাস্থলে তার সরাসরি উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক সমাধান আমাদের আস্থা বাড়িয়েছে।”
বাসচালক রুস্তম আলী, অটোরিকশাচালক ফজলে রাব্বি, আকরাম ও মনির বলেন: “একসময় প্রতিটি মোড়ে চাঁদা দিতে হতো। না দিলে গাড়ি আটক, মারধর করা হতো। কিন্তু হান্নান স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর একের পর এক চাঁদাবাজ গ্রেফতার হওয়ায় এখন আমরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছি। পুলিশি সেবার মানও বদলেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। থানায় আগত সেবাপ্রার্থীদের সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত, নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক সেল, নারী পুলিশ সদস্যদের সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে জনগণের আস্থা বেড়েছে।
নরসিংদী ছাত্রদলের সভাপতি মো. নাহিদ বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরে এক থমথমে পরিবেশে নরসিংদীতে আসেন এসপি হান্নান। চারদিকে ভয়, অপরাধ, চাঁদাবাজি—এসবের মধ্যেই তিনি মাঠে নেমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন। আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেফতার থেকে শুরু করে মাদক-অস্ত্র উদ্ধার পর্যন্ত সব কিছুতে তার উপস্থিতি ছিল সরাসরি। রাতেও মানুষ এখন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে—এটাই তার কৃতিত্ব।”
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী বলেন, “তিনি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না। যেকোনো ঘটনার পর নিজের উপস্থিতিতে দ্রুত সমাধান করেছেন। নরসিংদীর ইতিহাসে আমার দেখা সবচেয়ে সাহসী ও মানবিক পুলিশ সুপার তিনি।”
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রিন্টু বলেন, “ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যায় তিনি দ্রুত সহায়তা করেছেন। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে তার ভূমিকা অসাধারণ। কোনো অপরাধীর প্রতিই তিনি নমনীয় হননি।”
জেলার ছয় থানার ওসি ও কর্মকর্তারা জানান, “এসপি হান্নান স্যারের নেতৃত্বে আমাদের ওপর দায়িত্ব বেড়েছে, কিন্তু কাজের গতি ও ফোকাস আরও বেড়েছে। তিনি নিজেই সবকিছু মনিটর করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেন।”
পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এখন থেকে চাঁদাবাজির একমাত্র গন্তব্য হবে জেলখানা। জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।