এশিয়ান ডেস্ক:
রোগীর মৃত্যুর পর সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বজনদের হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা ব্যক্তিরা হলেন- আবদুল মালিক, সাবেল আহমদ, জুবেল আহমদ ও জুয়েল আহমদ।
এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সোমবার (২১ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন তারা। তবে তাদের অভিযোগ, সুচিকিৎসা না পেয়ে ওই রোগী মারা গেছেন।
জানা গেছে, রবিবার (২০ আগস্ট) করোনারি সমস্যা নিয়ে এক রোগী ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার বিকেলে তিনি মারা যান। এ সময় রোগীর সঙ্গে থাকা লোকজন ও স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙচুর করে গ্লাস, চেয়ার, টেবিল, ইজিসি মেশিনসহ বেশ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন।
হামলাকারীরা অনেক ওষুধও বিনষ্ট করার পাশাপাশি দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদে হুমকি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চারজনকে আটক করে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আজবাহার আলী শেখ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ শাখা ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা চাই’ উল্লেখ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার রাত আটটার দিকে পরিষদের সভাপতি মো. রাকিব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোগীর স্বজন নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসী ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে তাণ্ডব চালায়। তারা শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি প্রদান এবং শারীরিক হেনস্তা করার চেষ্টা চালায়। এ ছাড়া তাঁরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কক্ষ ও নার্সেস স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ ঘটনা প্রমাণ করে হাসপাতালে চিকিৎসকদের কোনো সুস্থ কর্মপরিবেশ নেই এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই।
এদিকে ধর্মঘট ডাকা শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।