বার্তা বিভাগঃ
দুঃষ্কৃতকারীদের ভয়ে বাড়িঘর হারাতে বসেছেন বিয়ানীবাজারের শাহেদ। আজ ২৪শে ডিসেম্বর সিলেট বিভাগীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি। মৌখিক বক্তব্যের পাশাপাশি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহেদের বোন।
মা-বাবা, ভাই বোন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন ; আমি শাহেদ হোসেন, পিতা: হরমুজ আলী, গ্রাম: পিরেরচক, ৮নং তিলপাড়া ইউনিয়ন, উপজেলা: বিয়ানী বাজার, সিলেট। আমার সাথে আছেন বৃদ্ধ পিতা-মাতা এবং আমার আপন ভাই, ছালেহ আহমদ, ভাবি ফাতেহা বেগম ও বোন সোমনা বেগম। আমরা হতদরিদ্র একটি পরিবার। আমি একজন সি এন জি চালক এবং বিগত দুই বছর থেকে মৌলভীবাজার জেলার বড় লেখা উপজেলায় আমার নানার বাড়ীতে থেকে সি এন জি চালিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছি। মাঝেমধ্যে বাড়ীতে এসে মা বাবা ভাই বোনদেরকে দেখে যাই। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের এলাকার কিছু প্রভাবশালী অসাধু ও কুচক্রীমহল দীর্ঘদিন থেকে আমাদের মাথা গোজার ঠাই পৈত্রিক ভিটা জোর করে দখলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল ও মামলা হামলা ভয় দেখাইতেছিল। আমরা নেয়ায়েত হতদরিদ্র ও অসহায় হওয়ায় আমাদের ওর্য়াড এর বর্তমান মেম্বার আনা মিয়া সহ আরো কয়েকজন লোক গ্রামে কোন কিছু হলেই সেটার দোষ আমি কিংবা আমার পরিবারের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কোন কারণ ছাড়াই মারপিট করতে চান। কারণ তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদেরকে ভিটা-মাটি থেকে উচ্ছেদ করা।
এলক্ষ্যে আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে আমার আপন চাচা মইন উদ্দিনের স্ত্রী জোসনা বেগম(৩৭) হঠাৎ স্বামীর বাড়ী থেকে পরকিয়ার প্রেমের টানে পালিয়ে যান। মেম্বার ও গ্রামের কিছু মুরব্বী বলেন যে, আমি নাকি আমার চাচীকে ভাগিয়ে নিয়েছি এবং এই অপবাদ দিয়ে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের অনেক নির্যাতন করা হয়। তথাকতিথ গ্রাম্য সালিশ বসে আমাদের পরিবারকে ঘর বাড়ী ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকী দেওয়া হয়। এমনকি, জোর করে সাদা কার্টিস পেপারে আমার ভাই ছালেহ আহমদ ও আমার স্বাক্ষর নেয়া হয়। আমার অবিবাহিত যুবতি বোন সেখানে স্বাক্ষর না করিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালা-গালি দিয়ে চড় থাপ্পর মারেন। উল্লেখ্য যে গত ২৫/১১/২০২২ ইং তরিখে রাত আনুমানি ১০.০০ ঘটিকার সময় আমার সিএনজি মৌলভীবাজার-থ-১১-৬৪৭৭ গাড়ি নিয়ে বাড়িতে আসার পথে মেম্বারের নেতৃত্বে দেশীও অস্ত্র রড, রামদা, লাঠি-সোটা ও জিআই পাইপ নিয়ে শহীর উদ্দিন, খোকন মিয়া, বাদশা মিয়া, আবুল মিয়া, জলাল মিয়া, রুহেল মিয়া, মারুফ মিয়া, শহিদ মিয়া, আফজাল মিয়া, আফছর মিয়া, জামিল উদ্দিন, লিলু মিয়া সহ অজ্ঞাত নামা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক আমার উপর হামলা করে আমার সিএনজির সামনের গ্লাস ভেঙ্গে দেয় এবং আমাকে মেরে লিলাফুলা জখম করে, আমি তখন প্রাণ রক্ষার্থে সেখান থেকে দৌড়ে পালাই। পরবর্তীতে গত ২৭/১১/২০২২ইং তারিখে ঐ লোকজন আবার ও আমার উপর হামলা করে আমাকে মারপিট করে আহত করে। আমি বিয়ানি বাজার থানায় মামলা করতে গেলে অসি সাহেব আমাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আমি গত ৩০/১১/২০২২ইং তারিখে আদালতে গিয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করি।
আদালতে মামলা করায় এখন আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আজ আপনাদের মাধ্যমে আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজির নিকট আকুল আবেদন করছি আমাদের এই হত দরিদ্র অসহায় পরিবারকে বাচাঁতে আপনাদের সদয়/সহানুভতি খুবই প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট, অনলাইন এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।