জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। খড়, বাঁশ, সুতা আর মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে তৈরি করছেন প্রতিমা। পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততা ততটাই বাড়ছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর কয়েক সপ্তাহ পরই দেবী দুর্গা আসছেন। দেবীর আগমনকে ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। দিন রাত পরিশ্রম করে তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন একেকটি অসাধারণ সুন্দর প্রতিমা।
উপজেলার বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গণে নানা আকার আর ঢংয়ের দুর্গা দেবীর মুর্তি বানানো হচ্ছে। উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আর এই উৎসবকে সামনে রেখে পূজা উদযাপনের প্রস্ততি যেন পুরোদমে এগিয়ে চলছে। প্রতিমা শিল্পীরা সকাল থেকে গভীর রাত পযর্ন্ত কাঁদামাটির কাজ করছেন। মাটির কাজ শেষ হলেই শুরু হবে রং-তুলির আঁচড়।
দেবী দুর্গাসহ প্রতিমাগুলোকে মনোমুগ্ধকর অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন এই শিল্পীরা।
জানা গেছে, স্থানীয় মৃৎশিল্পী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কারিগররা লোহাগড়ায় এসে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। দুর্গা ছাড়াও লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহ, মহিষ, পেঁচা, হাঁস ও সর্পসহ প্রায় ১২ টি মুর্তি তৈরি হচ্ছে নিপুণ হাতে।
উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। যেন দম ফেলার সময় নেই প্রতিমা তৈরির শিল্পীদের। এদের মধ্যে কেউ কেউ খড়, কাঠ, সুতা দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করছেন, কেউবা নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষী, সরস্বতী প্রতিমা। প্রতিমার কাঠামো তৈরি শেষে এখন চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির মুল কাজ। এরপর প্রতিমা শুকানোর পর কেউ কেউ শুরু করেছে প্রতিমায় রঙের কাজ।
উপজেলার পোদ্দার পাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কারিগর অমৃত সরকার বলেন, এ বছর পাঁটি পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছি। বংশ পরম্পরায় এই কাজ করে আসছি। এ বছর প্রতিটি প্রতিমা তৈরির খরচ হাজার টাকা নিলেও আমাদের পোষাবে না। কারণ প্রয়োজনীয় উপকণের মধ্যে রঙ, কাপড়, পুঁথির মালা, পরচুল, চুমকি, শোলা ও কারিগরের মজুরিসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। শুধু পেশাটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এ কাজ করতে হচ্ছে।
লোহাগড়া উপজেলায় ১৪২ টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণের পাশাপাশি চলছে সর্বজনীন মন্দির গুলোতে সাজসজ্জা।
প্রতিমা তৈরির কারিগর নিতায় সরকার বলেন, পূজা মন্ডপ ঘরের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। দেবী দুর্গার সঙ্গে রয়েছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষী ও স্বরসতী। এছাড়া এখন পযর্ন্ত বাঘ ও অশুরের মুখমন্ডলসহ দেহের কাঠামো গঠন করা হয়েছে।প্রতিমাগুলো রোদে শুকালোর কাজ চলছে। আর কিছুদিন পরেই রঙ-তুলির আঁচড়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে প্রতিমা।
তিনি আরও বলেন, মৃৎশিল্পীদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এই কাজ করে আর পোষায় না।
লোহাগড়া উপজেলা শাখার পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক খোকন কুন্ডু ও সদস্য সচিব প্রদীপ চৌধুরী জানান, এ উপজেলায় ১৪২ টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। শারদীয় দুর্গা উৎসব উদযাপনের সব প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণের পাশাপাশি চলছে সর্বজনীন মন্দির গুলোতে সাজসজ্জা।
লোহাগড়া উপজেলার চৌধুরী পাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দির সভাপতি নির্মল পোদ্দার জানিয়েছেন, আমাদের প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। আর কয়েকদিন পর রঙের কাজ শুরু হবে। এ বছর উপজেলায় সর্মোট ১৪২টি পূজা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
লোহাগড়া থানার ওসি মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিমা তৈরিকালীন সময়ে যাতে প্রতিমার কোন প্রকার ক্ষতি না হয় সেজন্য আয়োজক কমিটিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পাশাপাশি আনসার, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। এছাড়া পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে টহল টিমও সতর্ক হয়ে মাঠে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, এ পূজাকে ঘিরে যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান তিনি।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।