রাকিব হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার প্রান্নাথ পাটিকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ব্যাপক অনিয়ম ও একই বিদ্যালয় ১১ বছর ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।
রোববার (১১সেপ্টেম্বর) উপজেলার প্রান্নাথ পাটিকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা হাতীবান্ধা উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। এসময় তারা দাবী করেন একই স্কুলে একজন প্রধান শিক্ষক কিভাবে ১১ থেকে ১২ বছর থাকতে পারেন। আমরা তার বদলী চাই।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাতীবান্ধার প্রান্নাথ পাটিকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা আন্জুআরা ক্ষমতা অপব্যবহার করে নিজ ইচ্ছায় গত ০১ সেপ্টেম্বর ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন। নামমাত্র শিক্ষার্থী দিয়ে স্কুলে ভর্তি দেখিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করার চেষ্টা করেন। ওই বিদ্যালয়ের আহমাদুল আলম লিপটনকে সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে । কিন্তু তার মেয়ে বা ছেলে ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন না। তার মেয়ে পড়াশোনা করেন হাতীবান্ধা ম্যাগপাই কি গার্ডেন।
নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে আরো কয়েকজনকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও দাতা সদস্য নির্বাচন করেন প্রধান শিক্ষক । রেজবিন আক্তার ও নুরুজ্জামানকে সদস্য ও দাতা সদস্য করেন। কিন্তু তাদের ছেলেমেয়েদের ভর্তি দেখিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষিকা। শহিনুর ইসলাম তার দেবর কেও কমিটিতে রেখেেছন প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে গত ১১ বছর ধরে ওই প্রধান শিক্ষিকা ওই বিদ্যালয় অবস্থান করে একের পর এক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামত ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। এ ঘটনায় ওই এলাকার অভিভাক বৃন্দ প্রধান-শিক্ষিকার ক্ষমতার অপব্যবহার এর কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপ-পরিচালক রংপুর, জেলা শিক্ষা অফিসার ও হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার লিখিত অভিযোগ করেন।
প্রান্নাথ পাটিকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আন্জুআরা জানান, বিদ্যালয়ে এখনও কোন ম্যানেজিং কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার যে নির্দেশনা দেবেন সে অনুযায়ী কাজ করা হবে। ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং সভাপতির নামের ঘোষণার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন সরকার বলেন,একটি অভিযোগ পেয়েছি অভিযোগ পেয়ে একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার কে দায়িত্ব দিয়েছি। ওই বিদ্যালয়ের এখনো কোনো ম্যানেজিং কমিটি আমাদের অফিসে জমা দেয়নি। ওই বিদ্যালয়ের অনিয়মের বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখব।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।