রাকিব হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আজিজপুর এলাকায় জুয়া খেলে হেরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ স্বামী জান্নাতুলের বিরুদ্ধে। পরিবার জানায়, এটি আত্মহত্যা নয় এটি হত্যা।
রবিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজ এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিউটির পরিবার। এসময় লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন বিউটির ভাবি শ্যামলী বেগম। বক্তব্যে দাবি করা হয় বিউটির স্বামী জান্নাতুল ইসলাম একজন পাক্কা জুয়াড়ী। সে তাস ও মোবাইলে অনলাইন জুয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আসক্ত। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা ঋণ করে জুয়ায় হেরে যায়। এ নিয়ে সাংসারিক অশান্তি দেখা দেয়। জুয়া খেলে টাকা হেরে গৃহবধূকে বেধড়ক মারপিট করে হত্যার অভিযোগে জান্নাতুলের বিরুদ্ধে। সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর ) দিবাগত রাতে বেধড়ক মারপিটে একপর্যায়ে বিউটি মারা যায়। ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে তাঁকে (বিউটিকে) নিজ পরিহিত ওড়নায় গলায় ফাঁস দিয়ে ঘরের ধর্ণায় লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায় জান্নাতুল। পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে লাশ ময়না তদন্ত করে পরিবারের নিকট দেয়।
বিউটি বেগমের ছোট ভাই ছামিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারেনা। তাঁর স্বামী জান্নাতুল জুয়া খেলে টাকা হেরে সংসারে অশান্তি করতো। বোন ও ৪ সন্তানদেরকে খাবার এবং পোষাক দিতে পারতো না। বোনকে ছোট সন্তান নিয়ে চলে আসতে বললে, সে আসেনি। বাচ্চাদের দিকে তাঁকিয়ে কষ্ট/নির্যাতন সহ্য করে ছিল। আমার বোনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এখনও জান্নাতুল পলাতক। আমরা পাটগ্রাম থানায় মামলা দিতে গিয়েছি, পুলিশ মামলা নেয়নি।’ সংবাদ সম্মেলনে বিউটির পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকান্ডে জড়িত স্বামীর ফাঁসির দাবি করেন।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘মামলা না নেওয়ার কথাটি সঠিক নয়। পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করেছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।