মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নে আব্দুর রব হাওলাদার এবং বেলায়েত হোসেন নামের দু’জনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। হামলার পর ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারায়। নিহতরা দু’জন একে অপরের সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। সোমবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে শুক্তাগড় ইউনিয়নের জগাইরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হত্যাকান্ডের তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছেন, ‘খুন হওয়া ৬২ বছর বয়সী আব্দুর রব হাওলাদার শুক্তাগড় ইউনিয়নের জগইরহাট গ্রামের মৃত মফেজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। তিনি শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। নিহত অপরজনের নাম মো. বেলায়েত হোসেন। তিনি রব হাওলাদারের ভাতিজা। ৫৬ বছর বয়সী বেলায়েত’র বাবার নাম মকবুল হোসেন হাওলাদার। তিনি রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর সেক্টর এলাকায় একটি পোষাক কারখানায় চাকুরী করেন। গেলো সপ্তাহে ঈদ করতে ছুটিতে বাড়ি এসেছেন।’
নিহতদের বিষয়ে ঐ গ্রামের অনেকেই বলেছেন, ‘খুন হওয়া রব হাওলাদার একাধিকবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হলেও তিনি ছিলেন একসময়ের পেশাদার ডাকাত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি মামলাও ছিলো। জনপ্রতিনিধির কাতারে আসার পর আদালতের মাধ্যমে আস্তে আস্তে মামলাগুলো খালাস হয়ে যায়। তবে মধ্য বয়সে ডাকাতি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে বহুবার তিনি হাজতবাস করেছেন।’
চাচার সাথে খুন হওয়া ভাতিজা বেলায়েতের নামে তেমন কোনো অভিযোগ ছিলোনা। পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারনা করছেন চাচার খুনীদের চিনে ফেলায় ভাতিজা বেলায়েতকেও মেরে ফেলেছে খুনিরা।
রাজাপুরের প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, আব্দুর রব হাওলাদার নামকরা ডাকাত ছিলেন। তার একান্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলো মো. শাহ আলম এবং সবুজ খান। তাদেরও মৃত্যহয় অস্বাভাবিক ভাবে।
রাজাপুরের আব্দুল হাকিম মৃধা, ইসমাইল হোসেন এবং সোহরাব মিঞা বলেন, ‘২০১৫ সালের ৪ জুলাই শনিবার রাজাপুর উপজেলার কাঠিপাড়া গ্রাম থেকে ৫৫ বছর বয়সী শাহ আলমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছিলো পুলিশ। নিহত শাহ আলম শুক্তাগড়ের ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। এই ঘটনার আগের বছর ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত পৌনে আটটারদিকে পিরোজপুরের কাউখালীতে র্যবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সবুজ বাহিনীর প্রধান ৪২ বছর বয়সী দস্যু নাজির আহম্মেদ সবুজ নিহত হয়। দু’জন ঘনিষ্ট সহযোগীর এমন মৃত্যুর সাত বছরপর খুন হয়ে মরতে হলো রব হাওলাদারের।’
এদিকে সোমবার (২৪ এপ্রিল) রব হাওলাদার এবং তার ভাতিজা বেলায়েত খুনের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা। এসব বাহীনির উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর পুলিশ রক্তাক্ত দুজনকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে ঐসময়ে সেখানকার জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষনা করেন। এতথ্য জানিয়েছেন রাজাপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) পুলক চন্দ্র রায়। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে আইনগত সকল ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ওসি।’
ঘটনার পর মোল্লারহাট নামক এলাকা থেকে সন্দেহ ভাজন ১৯ বছর বয়সী আসাদ নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। পুলিশ জানায় আসাদের বাড়ি খুলনার দৌললতপুর রেলগেট এলাকায়। তার বাবার নাম ইমন হোসেন হাওলাদার। এছাড়া খুনের ঘটনাস্থল জগইরহাট এলাকার মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে শাহজাহান, আব্দুস সত্তার এর ছেলে মিজান এবং মো. খাদেম হোসেন’র এর ছেলে সজল হোসেনকে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ।
খুনের ঘটনা যারা দেখেছেন তাদের বরাত দিয়ে নিহত আব্দুর রব হাওলাদারের ভাগ্নে মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চাচা-ভাতিজা একসাথে বাড়ি ফিরছিলেন রাস্তায় ওৎ পেতে থাকা ১৪/১৫ জন লোক তাদের পথ আগলে দাঁড়ায়। এবং কুপিয়ে হত্যা করে চলে চায়।
এব্যাপারে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ডাবল মার্ডার হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু নাম পেয়েছি। চাচা-ভাতিজা দুজন খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৪ জনের ৩ জনেই খুনের সাথে সরাসরি জড়িতে মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। এ খুনের ঘটনার সাথে জড়িত কেহই ছাড় পাবে না, সকলকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।