রুহুল আমীন তালুকদার, সিলেট :
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান এরশাদের সহযোগিতায় ৭ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে ৪দিন আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনার দায়েরকৃত মামলার চার্জ গঠনের তারিখ পিছিয়েছে।
আগামী ৩ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত। এই মামলার চার্জ গঠনের ধার্য্য তারিখ ছিল ৩ মে মঙ্গলবার এই দিন সরকারি ছুটি থাকায় অভিযোগ (চার্জ) শুনানি হয়নি।
গত ২০১৯ ইংরেজি সালের ৮ জুলাই সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী (জেলা ও দায়রা জজ) চার্জশীট গ্রহণ করেন। ২০১৯ইং সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এম.এ ওয়াহেদ গাজী উপজেলার দিগলবাক গ্রামের মৃত আফতাব আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ, সফর আলীর ছেলে আলম হোসেন ও একই গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলীল ছেলে মাহমুদুল হাসান এরশাদ এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত/২০০৩) এর ৭/৯ (১) ৩০ ধারা মতে সিনিয়র জুড়িশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নং-৪, বিয়ানীবাজার সিলেটে চার্জশীট দাখিল করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ ইং সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর মা-বাবা বাড়িতে না থাকায় এই সুযোগে আব্দুল আহাদ, আলম হোসেন সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন স্কুল ছাত্রীর বাড়ির পাশে অটোরিক্সা (সিএনজি) নিয়ে ওৎপেতে থাকে। স্কুল ছাত্রী প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে গেলে তার মুখে কাপড় বেঁধে অটোরিক্সা তোলে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। পরের দিন এই ছাত্রীর বাবা-মা বাড়িতে এসে তার ছেলের নিকট ঘটনা শুনে তারা তাদের মেয়েকে খোঁজতে থাকেন। খোঁজা-খোজির এক পর্যায়ে অপহরণের চার দিন পর মেম্বার এরশাদ অর্পিতা ও ধর্ষিতা ছাত্রীর মা-বাবাকে ফোন করে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন সহ আরো কতেক লোকজনের সামনে অর্পিতা স্কুল ছাত্রীকে তার মা-বাবা কাছে সমজে দেয়।
পরে অর্পিতা স্কুল ছাত্রীর মা-বাবা তাকে বাড়িতে এনে তার কাছে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে, সে জানায়, আব্দুল আহাদ, আলম হোসেন ও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন্য ব্যক্তির সহযোগিতায় তাকে অপহরণ করে সিলেট শহরের মেন্দিবাগ এলাকায় বদরুলের বাড়িতে চারদিন আটকে রেখে আব্দুল আহাদ তাকে ধর্ষণ করেছে। কতিপয় অপহরণ ও ধর্ষণকারী আব্দুল আহাদ ও আলমের যোগসাজসে ঘটনার বিষয়টি থানা পুলিশকে না জানিয়ে বরং আপোষ মীমাংসার কথা বলে ধর্ষিতার মা-বাবাকে আইনের আশ্রয় নিতে বাধাগ্রস্ত করে। অপহরণ ও ধর্ষণকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে মেম্বার মাহমুদুল হাসান এরশাদ। এ ঘটনায় উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের বর্তমান বাসিন্দা মৃত ইসহাক আলীর ছেলে, অর্পিতা ও ধর্ষিতার পিতা আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে, ৫ অক্টোবর ২০১৮ইং তারিখে বিয়ানীবাজার থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহা থানা মামলা নং- ৩, জিআর-১৩৭/১৮, নারী ও শিশু ৫১৬/২০১৯ ইংরেজি।
এছাড়াও মাহমুদুল হাসান এরশাদ বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের এক তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের সহযোগিতা সহ থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ না করার জন্য প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে অর্পিতা ও ধর্ষিতা এই তরুণীকে আইনের আশ্রয় নিতে বাধাগ্রস্ত করায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত/২০০৩) এর ৭/৯ (১) ৩০ তৎসহ বাংলাদেশ প্যানাল কোড ৫০৬ ধারা মতে আরো একটি মামলা রয়েছে। যাহা বিয়ানীবাজার থানা মামলা নং ৮, তারিখ- ১২ এপ্রিল ২০২২ ইংরেজি, জিআর ৫৬/২০২২ইং। এরশাদ মেম্বার এলাকার একজন প্রভাবশালী লোক ও জনপ্রতিনিধি হওয়ায় আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার জিআর-৯/২০১৯ ইং, সিআর-১৫৯/২০২১ইং মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিকবার কারাভোগও করেছে সে। তার স্বাভাব চরিত্র ভালো নয়, সে অত্যন্ত জঘন্য ও ভয়ংকর প্রকৃতির লোক। তৃণমূল পর্যায়ের এমন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে জনসাধারণ সেবার পরিবর্তে ক্ষতি সাধিত হওয়ার আশঙ্কায়ই বেশি।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।