স্টাফ রিপোর্টার :
দুইটি অপহরণ-ধর্ষণ মামলা সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় একাধিক মামলার আসামী, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ৪নং শেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান এরশাদ এর বিরুদ্ধে দৈনিক সিলেটের দিনকাল পত্রিকার সাবেক স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক সিলেটের হালচাল এর নির্বাহী সম্পাদক, বর্তমানে দৈনিক সোনালী সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার রুহুল আমীন তালুকদারকে প্রাণনাশের হুমকীর অপরাধে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেছেন আদালত।
গত ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত এর বিচারক দক্ষিণ সুরমা ননজিআর-১৫/২০২২ইং নং মামলার আসামী এরশাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
গত ১৭ নভেম্বর বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত থেকে মাহমুদুল হাসান এরশাদ এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা থানায় পৌঁছার পর বিয়ানীবাজার থানার এসআই আব্দুর রহিম জানান, তাকে গ্রেফতার করতে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এরশাদ মেম্বার আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুল হাসান এরশাদ এর বিভিন্ন অপকর্মের আংশিক চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় দৈনিক সিলেটের দিনকাল পত্রিকার সাবেক স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক সিলেটের হালচাল এর নির্বাহী সম্পাদক, বর্তমানে দৈনিক সোনালী সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার রুহুল আমীন তালুকদারের উপর হামলার ঘটনায় এরশাদের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার সিআর মামলা নং ১৫৯/২০২১ইং দায়ের করেন। গত ১৯ মে বাদী রুহুল আমীন তালুকদারের দায়েরকৃত মামলায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা শেষে বিকাল ৩টায় তিনি তার পত্রিকা অফিস নগরীর দক্ষিণ সুরমাস্থ ভার্থখলা সামছুদ্দিন মার্কেটে যাওয়ার পথে ক্বীনব্রিজের দক্ষিণ মুখে পৌঁছামাত্র উপস্থিত পথচারী সাক্ষীদের সামনে আসামী এরশাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সিআর ১৫৯/২০২১ইং নং মামলা আদালত থেকে তুলে নিতে ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো প্রত্যাহার করতে বলে। অন্যথায় বাদী রুহুল আমীন তালুকদারকে ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে সুবিধামত স্থানে পেলে খুন করে লাশ গুম করে তার বিরুদ্ধে মামলা ও সংবাদ প্রকাশ করার স্বাদ চিরতরে মিটিয়ে দিবে বলে প্রকাশ্যে হুমকী দেয় এরশাদ ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা। এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় সাধারণ ডায়েরীর আবেদন করলে অফিসার ইনচার্জ সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদারের অভিযোগে বর্ণিত ঘটনার বিষয়বস্তু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির টু-আইসিকে নির্দেশ দেন। টু-আইসি শ্বশ্বধর বিশ্বাস অভিযোগে বর্ণিত বিষয় অধতর্ব্য অপরাধে সামিল থাকায় বিস্তারিত তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করেন। আদালতের অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে সঙ্গীয় ফৌর্স সহ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শনকালে বাদী রুহুল আমীন তালুকদার ও তার মানিত স্বাক্ষী, নিরপেক্ষ স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সর্বোপরি ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ্যে ও গোপনে ব্যাপক তদন্ত করেন। ঘটনার বিষয়ে প্রমাণ পেয়ে আসামী এরশাদের বিরুদ্ধে বিচারের নিমিত্তে গত ২১ আগস্ট সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রসিকিউশন মামলা দাখিল করেন তিনি।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।