স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট :
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দিগলবাক – ঢেউনগর গ্রামের মুরাদের বাড়ির সম্মুখ হতে মস্তকিন আলীর বাড়ি পর্যন্ত গোপাট নামক রাস্তার ১৮০ ফুট সিসি ঢালাই নির্মাণ কাজে সিডিউল বহির্ভূত ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করায় ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান এরশাদ এর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
গত ১৯ ডিসেম্বর সোমবার মাহমুদুল হাসান এরশাদ মেম্বার এর বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে হাজী আব্দুল মুকিত, গৌছ উদ্দিন শিপন, শাহীদুল ইসলাম লাভলু, এবাদ আহমেদ, সাহেদ আহমদ ও আবুল কালাম এই অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, লোকাল গভন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি)’র আওতাভুক্ত ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ২ লক্ষ, ৬৬৯ টাকা ব্যয়ে উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দিগলবাগ – ঢেউনগর গ্রামের মুরাদের বাড়ির সম্মুখ হতে মস্তকিন আলীর বাড়ি পর্যন্ত গোপাট নামক রাস্তার দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট, প্রস্থ ৭ ফুট ও পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি সিসি ঢালাই কাজের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের দায়িত্ব পায় ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মাহমুদুল হাসান এরশাদ। সে সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে রাস্তার কাজ শেষ করেছে।
সিডিউল অনুযায়ী সরকারি কাজে এক নাম্বার ইট (কংক্রিট) বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না দিয়ে এ প্রকল্পের কাজে নিন্মমানের ইট (কংক্রিট) ও মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তার সাইড কাটিং, প্লেইনিং, বেডে বালু, রুলিং ও ঢালাই কাজে পরিমাণ মত সিমেন্ট না দিয়ে এবং পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি করার কথা থাকলেও তা না করে এরস্থলে ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি করা হয়েছে। সিডিউলের নিয়ম ভঙ্গ করে কাজ শেষ করায় উক্ত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তা কর্ণপাত করেনি। বরং তাদের প্রতি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ এরশাদ মেম্বার।
এলজিএসপি-৩ এর কাজগুলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়নে সরকারি ভাবে এমন নির্দেশনা থাকলেও এ নির্দেশনা অনুসরণ না করে প্রভাবশালী-দুরন্ধর এই মেম্বার নিজেই প্রকল্প বাস্তায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তদারকী কর্মকর্তা উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আক্তার হোসাইনকে এ কাজের বিষয়ে অবগত না করে এবং তার অনুমতি ছাড়াই সিডিউল বহির্ভুত ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করে দুরন্ধর প্রকৃতির এই মেম্বার। রাস্তার কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি করার হীন উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্কীম সুপারভিশন ও ওয়ার্ড কমিটি তার নিজের লোকদিয়ে গঠন করে। আর এই কু-উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে স্কীম সুপারভিশন ও ওয়ার্ড কমিটি কর্তৃক সম্পূর্ণ মিথ্যার আশ্রয়ে ২টি প্রত্যয়নপত্র যা প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে গ্রহণপূর্বক স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান- মেসার্স এবাদ এন্টারপ্রাইজ এর নাম ব্যবহার করে ঠিকাদারী কাজের বিল উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছে।
শুধু রাস্তার কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি নয়, এছাড়াও মাহমুদুল হাসান এরশাদ বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের ৭ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী ও চারখাই ইউনিয়নের এক তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের সহযোগিতা সহ থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে অর্পিতা ও ধর্ষিতা এই স্কুল ছাত্রী সহ তরুণীকে আইনের আশ্রয় নিতে বাধাগ্রস্ত করায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত/২০০৩/ এর ৭/৯ (১) ৩০ তৎসহ বাংলাদেশ প্যানেল কোড ৫০৬ ধারা মতে পৃথক ২টি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। যাহা বিয়ানীবাজার থানার মামলা নং-৩, জিআর- ১৩৭/১৮ নারী ও শিশু ৫১৬/২০১৯ ইংরেজি, মামলা নং- ৮, জিআর- ৫৬/২০২২ইং, আওয়ামীলীগ নামধারী এরশাদ মেম্বার এলাকার একজন প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধি হওয়ায় আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার জিআর-০৯/২০১৯ইং, সিআর- ১৫৯/২০২১, দক্ষিণ সুরমা নন-জিআর- ১৫/২০২২ইং নং মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিকবার কারাভোগও করেছে সে। সে অত্যন্ত জঘন্য ও ভয়ংকর প্রকৃতির লোক। আওয়ামীলীগ নামধারী তৃণমূল পর্যায়ের এমন জনপ্রতিনিধির কাজ থেকে জনসাধারণ সেবার পরিবর্তে ক্ষতি সাধিত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মাহমুদুল হাসান এরশাদ মেম্বারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।