জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
৮ জুলাই ২০২৫ মঙ্গলবার
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের নির্মাণ কাজের অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শাহ বাজার হতে নওদাবশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী ২ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। সড়কটি নির্মাণের সপ্তাহ পার হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। সড়কের নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের প্রত্যক্ষ মদদে ঠিকাদার সড়কে দায়সারা কাজ করেছে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী) প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার শাহ বাজার হতে নওদাবশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কের নির্মাণ করা হয়। সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার ও IFAD (International fund for agriculture development). সড়ক নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে কুড়িগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল এন্টারপ্রাইজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ২ হাজার ১০০ মিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। তবে সড়কের নির্মাণ কাজ দায়সারা ভাবে করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। শুধু অভিযোগই নয় এসময় ক্ষুব্ধ জনতা হাত পায়ের আঙ্গুলের খোঁচায় সড়কের কার্পেটিং তুলে দেখিয়ে ক্ষোভ জানান।
সড়কটি নির্মাণে কি ধরনের দায়সারা কাজ হয়েছে জানতে চাইলে স্থানীয় গোলাম মোস্তফা জানান, সড়কে নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। তাও পরিমানের চেয়ে অনেক কম। রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও মাটি ভরাট করা হয়নি। সড়কে কার্পেটিং করার আগে সড়ক পরিস্কার না করেই কাদামাটি ও ময়লার উপরে সড়ক কার্পেটিং করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এমন দায়সারা কাজ দেখে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। ফলশ্রুতিতে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের লোকজন ঠিকাদারের লোকজনের সাথে মিলে ওনার উপর চড়াও হন। এবং তাকে সড়ক থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।
সড়কের পাশের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল (৭৫) বলেন, ” আমার দোকানের সামনে রাতের আঁধারে বৃষ্টির মধ্যে সড়কে তেল ছিটাতে দেখে কাজ বন্ধ রাখতে বলি। এতে ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকজন আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। একপর্যায়ে সড়কের দায়সারা কাজ বন্ধ করার জন্য আমি সড়কে শুয়ে পড়ি। তারা আমাকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, এমন দায়সারা কাজ আমি জীবনেও দেখিনি। এখনতো সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসে দেখুক, সড়কের কাজ কেমন হয়েছে।”
নওদাবস গ্রামের মহেশ্বর রায় ও উত্তর বড়ভিটা গ্রামের লিটন মিয়া জানান, সড়কের সাফাই না করেই সড়কে পিচ পাথর ঢেলে সড়কের কার্পেটিং করেছে। সড়কের নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদেরই প্রত্যক্ষ মদদে সড়কের কাজ দায়সারা ভাবে হয়েছে। স্থানীয় অনেকেই কাজ চলমান থাকা অবস্থায় বাধা দিয়েছেন তাতেও লাভ হয় নি। উল্টো ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কার্যসহকারী শহিদুল ইসলাম স্থানীয় অনেকের সাথে খুব বাজে আচরণ করেছে। তুলে নিয়ে যাওয়াসহ মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। জানান তারা।
স্থানীয়রা আরও জানান, সড়কটি দিয়ে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কাঁচা সড়ক দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অবশেষে সড়কটি পাকা করণের কাজ শুরু হলে সবাই খুশি হয়েছিল। কিন্তু দায়সারা ভাবে সড়ক নির্মাণ করায় তাদের খুশি ম্লান হয়েছে। সড়ক নির্মাণের সপ্তাহ না যেতেই বিভিন্ন জায়গায় কার্পেটিং উঠে যায়। দায়সারা কাজের প্রমাণ ধামাচাপা দিতে আবার বালু ফেলে ঢেকে দেয়া হয়েছে। সড়কটি এ অবস্থায় থাকলে অল্পদিনের মধ্যে সড়কের অবস্থা বেহাল হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান জানান, সড়কটির যে যে অংশে কার্পেটিং উঠে গেছে তা ইতিমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। গোটা সড়কের নির্মাণ কাজ ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে । পরবর্তীতে যদি সড়কের আরো কোন ত্রুটি দেখা দেয় সেটিও সমাধান করা হবে। ঠিকাদার সড়ক নির্মাণে দায়সারা কাজ করে পার পেয়ে যাবেন, এমন সুযোগ দেওয়া হবে না।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।