1. admin@asianexpress24.com : admin :
  2. asianexpress2420@gmail.com : shaista Miah : shaista Miah
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
লোহাগড়ায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা কোম্পানীগঞ্জ জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপিত লোহাগড়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাস্তবায়নে প্রস্তুতিমুলক সভা অনুষ্ঠিত নড়াইল জেলা ব্লাড ব্যাংকের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির ঘোষণা, সভাপতি কায়ছার ও সম্পাদক রকি বিশ্বনাথে সোনাপুর চ্যারিটি গ্রুপের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ  নড়াইলে ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলের মৃ+ত্যু ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে গাছের চারা রোপণ করলেন ওসি বিশ্বনাথে নিখোঁজের ৫ দিন পর তরুণীর ঝুলন্ত পঁচা লাশ উদ্ধার  বিশ্বনাথে ৩৫০ পিস ই য়া বা ও গাঁ/জা সহ আ/ট/ক -১ নড়াইলে সড়ক দু*র্ঘট*নায় নসিমনের চালক নি/হ/ত  লোহাগড়ায় মরহুম ওবায়দুল হক সবুজের মৃত্যুতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বিশ্বনাথে সোনাপুর চ্যারিটি গ্রুপের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  শ্যামনগরে জ্বালানী তেল বন্টনে স্বচ্ছতায় এগিয়ে এলেন চেয়ারম্যান, ৩ ইউনিয়নের জনগণের প্রশংসা লোহাগড়ায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্ধোধন বিশ্বনাথে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষ*তি*গ্রস্ত পরিবারকে প্রবাসীর ঢেউটিন প্রদান

প্রশাসনের নাকের ঢগায় নড়াইল সদর হাসপাতালের সামনে চলছে জটিল রোগের চিকিৎসা নামে ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার মহাদেবের প্রতারনা

  • Update Time : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৬৫৭ Time View


মির্জা মাহামুদ হোসেন রন্টুঃ
নড়াইল সদর হাসপাতালের সামনে আরোগ্য নিকেতন নাম দিয়ে প্রতিষ্ঠান খুলে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে সাধারন রুগীদের সাথে প্রতারনার অভিযোগ পাওয়া গেছে ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি থেকে ডাক্তার হওয়া মহাদেব দাসের বিরুদ্ধে।

সরোজমিনে নড়াইল সদর হাসপাতালের সামনে খান ফার্মেসীর পেছনে গিয়ে দেখা যায় বিশাল চেম্বার নিয়ে বসে আছেন মহাদেব দাস। যিনি প্রথম জীবনে ছিলেন ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি।
ঔষধ বিক্রি করতে করতে তিনি এখন ডি এম এফ ডিগ্রীধারী বিশাল অভিজ্ঞ ডাক্তার, সাজানো গোছানো চেম্বার। ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের দির্ঘ লাইন। অভিজ্ঞ ডাক্তারদের চেম্বারের মত সব কিছু রয়েছে তার চেম্বারে। শুধু প্রেসক্রিপশনে সরকারী বিধিনিষেধ থাকায় নামের পাশে ডাক্তার শব্দটি লিখতে পারেন নি। ডাক্তার না হয়েও সবধরনের রুগী দেখছেন তিনি।
কথা হয় বকুল মুন্সী নামে নার্ভের সমস্যা নিয়ে আসা এক রুগীর সাথে। হাতে বিভিন্ন টেষ্ট রিপোর্ট, ডাক্তার সাহেব টেষ্ট দিয়েছিলেন সেই টেষ্ট করে এনে ডাক্তার সাহেব কে দেখিয়ে ব্যবস্থাপত্র নিলেন। ব্যবস্থাপত্রে সাত রকম ঔষধ লিখেছেন তিনি, এর পূর্বেও এসেছেন মহাদেবের কাছে। শুধু ঔষধ আর টেষ্টের সংখ্যা বাড়ে কাজের কাজ কিছুই হয়না।
মাইজপাড়া থেকে এসেছেন ষাটোর্ধ বিকাশ দাস। এই প্রতিবেদকের সামনেই ডাক্তার সাহেবকে বলতে লাগলেন আপনি যে ঔষধ দিয়েছেন তাতে কোন কাজ হয়নি।আপনার ঔষধ খেয়ে আমার প্রস্রাবে সমস্যা হচ্ছে, আমার পা ফুলে গেছে, এবার ডাক্তার সাহেব বললেন, আপনার কিডনিতে টিউমার হয়েছে, আপনি এই ঔষধগুলো নিয়মিত খান ঠিক হয়ে যাবে।
বাসগ্রাম থেকে স্পাইনাল কর্ডে সমস্যা নিয়ে এসেছেন তরিকুল ইসলাম। আসার পর ডাক্তার সাহেব টেষ্টের জন্য পাঠিয়েছিলেন ল্যাবসানে ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারে। রিপোর্ট নিয়ে এসেছেন ডাক্তারকে দেখাতে। আকলিমা এসেছেন নাতীকে নিয়ে, ডাক্তার মহাদেবের তত্ত্বাবধানে একজনকে দিয়ে ৪ বছর বয়স্ক নাতিকে মুসলমানী দিয়েছিলেন,১৫ দিন পার হলেও ক্ষতস্থান শুকায়নি, ক্ষতস্থানের অবস্থা খারাপ, নাতি রাতে ঘুমাতে দেয়না, তাই এসেছেন মহাদেবকে দেখাতে।
এছাড়াও গ্রাম অঞ্চল থেকে আরও ১০/১২ জন রুগী এসে বসে আছেন তাকে দেখানোর জন্য। নড়াইল সদর হাসপাতালের সামনে থেকে মহাদেবের চেম্বারে এসব রুগী ধরে আনার দায়ীত্বে রয়েছে চিহ্নিত কিছু দালাল।
এই সব দালালেরা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কথা বলে গ্রাম থেকে আসা সাধারন রুগীদের নিয়ে আসেন মহাদেবের কাছে । রুগী প্রতি কথিত ডাক্তার মহাদেবের ভিজিট দুইশত টাকা।
এবার রুগীর শরীরে নানান জটিল সমস্যার কথা বলে টেষ্ট স্লিপ হাতে ধরিয়ে দিয়ে দালালের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন তার কাঙ্খিত ল্যাবসান ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারে। সেখানেও টেষ্ট প্রতি মোটা অংকের কমিশন রয়েছে দালাল ও কথিত ভূয়া ডাক্তার মহাদেবের জন্য।


তিনি ডি এম এফ হয়ে কিভাবে নার্ভ, কিডনি, মেরুদন্ড ও শিশু রুগীদের চিকিৎসা এবং টেষ্ট করার জন্য প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমি এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেই। আর জরুরী রুগীদের বিভিন্ন অভিজ্ঞ ডাক্তারদের কাছে রেফার্ড করি।
একজন ডি এম এফ হয়ে নড়াইল সদর হাসপাতালের সামনে বসে এভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার নামে জটিল রোগে আক্রান্ত রুগী দেখার এখতিয়ার আপনার আছে কিনা? এ বিষয়ে তিনি বলেন,
এম বি বি এস, বি ডি এস ডিগ্রী না থাকলে নামের পাশে ডাক্তার লেখা যায়না, কিন্তু রুগী দেখায় কোন বাধা নেই এবং এ বিষয়ে সরকারী কোন বিধিনিষেধ আছে কিনা তিনি তা জানেন না।


এ বিষয়ে নড়াইলের সিভিল সার্জন নাসিমা আক্তার জানান, নড়াইল সদর হাসপাতালের সামনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার নামে এমন কর্মকান্ড যদি কেউ করে থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
সারাদেশব্যাপী ভূয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও নড়াইলে এর তেমন কোন প্রভাব দেখা যায়না। আর অভিযান চললেও তা নাম মাত্র জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
জরিমানার টাকা পরিশোধ করে পরের দিন থেকেই আবার শুরু হয় এসব ভূয়া ডাক্তারদের প্রতারনার ব্যবসা। তাই অচিরেই ভূয়াডাক্তার মহাদেবের প্রতারনা মূলক কর্মকান্ড বন্ধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Theme Customized By BreakingNews