নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলের আতঙ্কের আরেক নাম মো. জিয়াউর রহমান। তিনি নড়াইল সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক। তিনি মোটা অংকের ঘুষ না পেলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন প্রকল্পের বিল আটকে রাখেন। জিআর বরাদ্দ পাওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে পিআইসি সভাপতির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা না পেলে বরাদ্দের কাগজপত্র তৈরিতে নানা রকম অজুহাত দাড় করান বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে সদ্য ক্ষমতা চ্যুত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি চাকরিটি বাগিয়ে নেন এই জিয়াউর। তিনি এএফএম মহিতুল ইসলামের ভাইয়ের ছেলে এবং যশোর জেলার মনিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য মহিতুল ইসলাম ছিলেন আওয়ামীলীগের অনতম একজন নেতা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারি। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে ওই বছর অক্টোবর মাসের ২ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার বর্গের হত্যা সংক্রান্ত ধানমন্ডি থানায় মামলা নং ১০(১০) ১৯৯৬ দায়ের করা হয়। মহিতুল ইসলাম শেখ মুজিবুর হত্যার সাক্ষী হয়েছিলেন এবং এ ব্যাপারে পুলিশ কেস করেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার বাদি হিসেবে বেশ পরিচিত লাভ করেছেন।
এ কারনে হাসিনা সরকারের সময় মো. জিয়াউর রহমান চাচা মহিতুল ইসলামে পরিচয়ে সরকারি চাকরিতে ভিন্ন পথে পা রাখেন। এছাড়াও চাচার পরিচয় দিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের চাপে রাখতেন অফিস সহকারি জিয়াউর।
৫ আগষ্ট শ্বৈরাচার সকার প্রধান শেখ হাসিনার পতনের পর অফিস সহকারী জিয়াউরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন অনেকেই। তবে এসব অভিযোগ অস্বিকার করে জিয়াউর রহমান বলেন, আমি সামান্য অফিস সহকারি। আমার ঘুষ বানিজন্য করার সুযোগ কৈ?
সচেতন মহলের দাবি সরকারের যেসব দপ্তরে অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে তাদেরকে অতিদ্রুত আইনের আওয়াত আনতে হবে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।