রাকিব হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গত ২৯ জুন রাতে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ছাত্রীটি দহগ্রাম ইউনিয়নের দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালেয়র সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার ৬ দিনেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার আইনি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৯ জুন) ছাত্রী (১৪) বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে একই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বালারডাঙ্গা এলাকার এছাহাক আলীর ছেলে সবুজ হোসেন (২০) পথরোধ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষককে লেবু দেওয়ার কথা বলে বাগানে নিয়ে যায়। কয়েকটি লেবু শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাগে দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছাত্রীর চিৎকারে সবুজ পালিয়ে যায়। এ সময় ছাত্রীটি সবুজদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবাকে ঘটনা জানিয়ে বাড়িতে যায়। ওইদিন রাতে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগ দেওয়ার ৫ দিনেও আইনি কোনো সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, এছাহাক আলী এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ও তাঁর ছেলে দুদকে চাকুরি করায় উনারা আমাদেরকে ভয়ভীতি এবং বিভিন্ন প্রকার চাপ দিচ্ছেন। পুলিশ এখনও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
দহগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সর্দারপাড়া এলাকার জাহিদুল হক (৫০) বলেন, কন্যা সন্তানকে কিভাবে স্কুল, কলেজ পাঠাবো। তাঁদের তো শরীরের নিরাপত্তা নাই। কোন সময় কে টেনে নিয়ে ক্ষতি করবে- আর আইনি সহায়তাও দ্রত পাওয়া যায়না। তাহলে আমরা কার কাছে যাবো।
এ ব্যাপারে সবুজ হোসেনের বাবা এছাহাক আলী বলেন, ঘটনার দিন মেয়েটি (ছাত্রী) আমার বাড়িতে এসে জানায় আমার ছেলে সবুজ নাকী খারাপ ব্যবহার করেছে। আমি মেয়েটিকে তাঁদের বাড়িতে রেখে এসেছিলাম।
এ ব্যাপারে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি, মেয়ে বা ছেলের পরিবারের কেউ আমাকে বলেনি।
দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।