নড়াইল প্রতিনিধিঃ
নড়াইলে কালিয়া উপজেলার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের পিযুষ বিশ্বাসের কিশোর ছেলে নিউটন বিশ্বাস (১৬) কে মধ্যযোগীয় কায়দায় গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বুধবার (২৫ মে) আনুমানিক ১২ টার সময় স্থানীয় সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্মল বিশ্বাস ও একই গ্রামের মৃত-রবিন মন্ডলের ছেলে দিপক মন্ডলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া যায়।
পিযুষ বিশ্বাসের সঙ্গে জমিজমাকে কেন্দ্র করে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে পিযুষ বিশ্বাসের কিশোর ছেলে নিউটন বিশ্বাস নদীতে মাছ ধরার সময় নির্মল বিশ্বাসের নেত্রীত্বে, ওরুন শাখারুর ছেলে দিভাষ শাখারু (৪০), মৃত-হারান বিশ্বাসের ছেলে সুশিল বিশ্বাস (৫৫), সুশিল বিশ্বাসের ছেলে শুখ বিশ্বাস (২৮) ও ছোট ভাই জয় বিশ্বাস (২৫), সুনিল বিশ্বাসের ছেলে শজিব বিশ্বাস (২২),অনিল বিশ্বাসের ছেলে বিনয় বিশ্বাস (২৭) সহ আরো ৮ থেকে ১০ জন ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোর পূর্বক নিউটনকে ধরে নিয়ে গবিন্দ বিশ্বাসের বাড়ির গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযোগীয় কায়দায় নির্মম ভাবে নির্যাতন করে।এসময় নিউটন বিশ্বাস অচেতন হয়ে পড়লে এ অনৈতিক ঘটনা সামাল দিতে পুলিশের সহযোগিতা নেয়। অচেতন কিশোরকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে, গাঁজা সেবনের করার মিথ্যা শিকার উক্তি নেয়। শিখিয়ে দেয় যে তুই বল গাজাঁ সেবন করিস।
এসময় গুরুতর আহত কিশোর নিউটন বাচাঁর জন্য পুলিশের কাছে মিথ্যা শিকারউক্তি দিলে,নড়াগাতি থানা পুলিশের এ এস আই আমিনুর রহমান নিউটন বিশ্বাসকে কালিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার আদালতে হাজির করে গাজাঁ সেবনের দায়ে কিশোর নিউটন বিশ্বাসকে ১০ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে সরজমিনে গিয়ে যানা য়ায়, জমিজমাকে কেন্দ্র করে নিউটন বিশ্বাসকে মধ্যযোগীয় কায়দায় নির্মল বিশ্বাসের নেত্রীত্বে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়’রা জানান। অসহায় ভুক্তোভোগী পিতা পিযুষ বিশ্বাস সাংবাদিকদের অভিযোগ করে জানান আমি সকালে চুনখোলা বাজারে নাইট ডিউটি করে বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়ি হঠাৎ বেলা ১২ টার দিকে উৎপল বাকচির স্ত্রী অমলা বাকচি দৌড়ে এসে আমাকে ডেকে বলে দাদা তোমার ছেলেকে গাছে বেঁধে মারতে মারতে মেরে ফেলতেছে। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে দেখি, আমার ছেলেকে গাছে বেঁধে অমানুষীক ভাবে মারপিট করছে। এসময় আমি চিৎকার করে ছেলেকে ছাড়াতে গেলে,৷ ছেলেকে রেখে আমাকে মারধোর করতে থাকে এবং ভীশ্বদেব মন্ডল লোহার সাবল নিয়ে আমাকে মারতে তেড়ে আসলে আমি নিজের প্রান ভয়ে দৌড়ে পালাই। আমি ৯৯৯ এ ফোন করলে নড়াগাতী থানার পুলিশ ঘটনা স্থলে আসতে গেলে পথিমধ্যে পুলিশের সাথে দেখা হলে আমি তাদের ঘটনা স্থলে নিয়ে যাই। এসময় আমার সন্তানকে গাছে বাঁধা অবস্থায় দেখেও পুলিশ নির্যাতনকারীদের কিছুই বলেনি। আমার কিশোর সন্তানকে আসামিদের কথা মত মিথ্যা শিকারউক্তি নিয়ে থানায় না নিয়ে উপজেলায় নিয়ে যায় এবং আমাদের থানায় যেতে বলে। এ এস আই আমিনুর রহমান আমার নিরিহ ছেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত করে ১০ দিনের কারাদন্ড দেয়। আমি আমার ছেলের নির্যাতনকারীদের বিচার চাই। কেন আমার নির্দোষ ছেলেকে ষড়যন্ত্র করে গাছে বেঁধে মধ্যযোগীয় কায়দায় নির্যাতন করলো। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় পুলিশ সুপার নড়াইল স্যারের দৃষ্টি কামনা করছি। দ্রুত নির্যাতনকারীদের বিচার করার জোর দাবি করছি বলেও জানান।
পাখিমারা গ্রামের উৎপল বাকচি ও শুব্রত বিশ্বাস বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে নিরীহ নিরঅপরাধী কিশোর নিউটন বিশ্বাসকে গাছে বেঁধে মারপিট করে ভ্রাম্যমাণ আদালের মাধ্যমে মিথ্যা অপরাধের জন্য ১০ দিনের সাজা দেওয়া মোটেই উচিত হয়নি। ছেলেটি কিছুই করেনি কিন্তু ছেলেটি নদিতে মাছ ধরার সময় জোর করে ধরে এনে মারপিট করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
কিরন মন্ডল,সমির ভক্তসহ স্থানীয় একাধীক ব্যক্তী এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্মল বিশ্বাস জানান, নিউটন ও নিউটনের বাবা পিযুষ বিশ্বাসের সাথে আমার কোন শত্রুতা নেই,আমি কেন ছেলেটিকে নির্যাতন করবো, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমি শুনেছি নিউটনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে আমি অসুস্থতার কারনে এর চেয়ে বেশি কিছু জানাতে পারবো না।
এ বিষয়ে নড়াগাতি থানার এ এস আই আমিনুর রহমান বলেন, একটি মেয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ড্রেসচেন্স করছিলো এসময় নিউটন ছেলেটি, মেয়ে টির ঘরে ঢুকলে মেয়েটি চেঁচামেচি করলে স্থানীয়’রা এসে ছেলেটিকে আটক করে আমাদের হাতে তুলে দিলে আমরা কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে হাজির করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা। এঘটনায় ইউনিয়ন বাসি এমন নেক্কার জনক ঘটানার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানান। এ কিশোর নির্যতনের ঘটনায় কিশোর নিইটনের পিতা বাদি হয়ে নড়াইল কোর্টে একটি মামলা দায়ের এর পস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে ।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।