ওসমানীনগর প্রতিনিধি :
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ৯নং দয়ামীর ইউনিয়নের মিরারগাঁও গ্রামের মৃত আফতাব আলীর ছেলে আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্বত্ব মালিকানাধীন দোলন সুপার মার্কেট সহ ভূমি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ ও জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার বিষয়ে উপজেলার চক আতাউল্লাহ গ্রামের মৃত মকছদ উল্লাহ উরফে মকছদ আলীর ছেলে প্রবাসী মজম্মিল আলী, তজম্মুল আলী, মৃত মকছদ উল্লাহ’র স্ত্রী খয়রুন নেছা সহ ৩ জন বাদী হয়ে তাদের স্বত্ব মালিকানাধীন দোলন সুপার মার্কেট ও ভূমি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ ও জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে গত ৫ ডিসেম্বর যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহা স্বত্ব মোকদ্দমা নং ১৬৭/ ২০১৯ ইংরেজি।বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার বিবাদীরা হলো- ওসমানীনগর উপজেলার মিরারগাঁও গ্রামের আলা উদ্দিনের স্ত্রী আম্বিয়া বেগম, মৃত আফতাব আলীর ছেলে আলাউদ্দিন, চক আতাউল্লাহ গ্রামের মৃত হাছিদ উল্লা উরফে আব্দুল মছব্বিরের ছেলে দোলন মিয়া, মূল বিবাদী সহ ৪৩ জন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দুরন্ধর প্রকৃতির আলাউদ্দিন কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে কাগজাত সৃষ্টি করে প্রবাসী মজম্মিল আলী সহ মামলার বাদী তিনজনের স্বত্ব মালিকাধীন দোলন সুপার মার্কেট সহ ভূমি আত্মসাৎ ও জবর দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আলাউদ্দিন অন্যায় লাভের আশায় হীনচরিতার্থ হয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কৌশলে তার সৃষ্ট কাগজাত পাকাপোক্ত করতে ও জবর দখল টিকিয়ে রাখার কু-উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী আম্বিয়া বেগমের নামে বর্ণিত দোলন সুপার মার্কেট সহ ভূমি রেজিস্ট্রি’র দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। প্রকৃতি ভূমির মালিক মজম্মিল আলী তার পরিবারের লোকজন সহ আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে আলাউদ্দিনের কুপ্ররোচনায় তার ভাই সমছু মিয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা বয়ানে ওসামানীনগর থানায় বিগত ২২মে ২০১৯ ইংরেজি তারিখে ২০ নং মামলা দায়ের করে প্রবাসী মজম্মিল আলীকে অযথা হয়রানী ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এমনকি প্রাণনাশ সহ জেল, জুলুমের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে প্রবাসীর মালিকানাধীন ভূমি সহ দোলন সুপার মার্কেট জবর দখল ও আত্মসাৎ করার জন্য লিপ্ত রয়েছে। মজম্মিল আলী প্রবাসে অবস্থানকালীন সময়ে উপজেলার চক আতাউল্লা গ্রামের আব্দুল বারী এবং মিরারগাঁও গ্রামের আলাউদ্দিন কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে চক আতাউল্লা গ্রামের দোলন মিয়ার কাছ থেকে ভূমি সংক্রান্ত একটি আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রোরী করে নেন। ওই আমমোক্তারনামায় দোলন মিয়ার মালিকানাধীন দুই শতক ভূমির সাথে চক আতাউল্লাহ মৌজার অন্তর্গত চকেরবাজারস্থ মজম্মিল আলী, তজম্মুল আলী ও খয়রুন নেছার মালিকানাধীন দোলন সুপার মার্কেট সহ ছয় শতক ভূমি দলিল রেজিস্ট্রি করে নেন। প্রবাসী মজম্মিল আলী দেশে এসে বিষয়টি লোকমুখে অবগত হয়ে কাগজপত্র সংগ্রহ করে তিনি দেখতে পান ২০১১ সালের ২৩ অক্টোবর দোলন মিয়া স্বাক্ষরিত আলাউদ্দিনকে কতিথ আমমোক্তারনামা প্রদান করা হয়। ২০১৪ সালের ৩ ডিসেম্বর আব্দুল বারিক এর সহযোগিতায় আলাউদ্দিন বিক্রেতা হয়ে মজম্মিল আলী, তজম্মুল আলী ও খয়রুন নেছার দোলন সুপার মার্কেট ও তাদের মালিকানাধীন ৬ শতক ভূমি সহ মোট ৮ শতক ভূমি বিক্রির বিষয়ে তাজপুর সাবরেজিস্ট্রারী অফিসে একখানা রেজিস্ট্রারী বায়নাপত্র সম্পাদন করেন। বায়নাপত্রে ভূমির ক্রেতা হিসেবে আলাউদ্দিনের স্ত্রী আম্বিয়ার বেগমের নাম উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে প্রবাসী মজম্মিল আলীর দায়েরী ১৬৭/১৯ইং নং স্বত্ব মোকদ্দমার দায় এড়াতে এবং সৃষ্ট কাগজাত ও জবর দখল টিকিয়ে রাখার কু-উদ্দেশ্যে গত ২০১৯ইংরেজী সালের ২২ মে মজম্মিল সহ তার স্বজনদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ কল্পকাহিনী সাজিয়ে ভূমি আত্মসাৎ ও জবর দখলের চেষ্টাকারী আলাউদ্দিন কুপ্ররোচনায় তার ভাই সমছু মিয়া বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় বর্ণিত ২০নং মামলায় মজম্মিল আলীকে প্রধান আসামী করে তার স্বজন সহ মিরেরগাঁওয়ের নিরীহ নিরপরাধ শাহাব উদ্দিন, জয়নাল মিয়া, শামীম মিয়া, নিজাম মিয়া, আশরাফ মিয়কে আসামী করে অযথা হয়রানী ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত করে যাচ্ছে।
প্রবাসী মজম্মিল আলী সম্প্রতি দেশে আসলে আলাউদ্দিন সহ তার সহচররা তাকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল-জুলুম ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে ও দোলন সুপার মার্কেট সহ ভূমি আত্মসাৎ এবং জবর দখলের চেষ্টা করছে। এতে প্রবাসী মজম্মিল আলী ও তার স্বজনরা জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। তিনি জানমাল রক্ষা সহ জবর দখলকারী আলাউদ্দিন ও তার সহচরদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।