স্টাফ রিপোর্টার :
দৈনিক সোনালী সিলেট ও এশিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইন পোর্টাল এর স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সিলেটের হালচাল’র সাবেক নির্বাহী সম্পাদক ও দৈনিক সিলেটের দিনকাল এর সাবেক স্টাফ রিপোর্টার রুহুল আমীন তালুকদার কে হত্যার চেষ্টা মামলার প্রধান আসামী ও বিয়ানীবাজারের এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের সহযোগিতা সহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী ইউপি মেম্বার মাহমুদুল হাসান এরশাদ এর বিরুদ্ধে দায়েরী মামলা তুলে নিতে ও তার নামে প্রকাশিত সকল অপকর্মের সংবাদগুলো প্রত্যাহার করতে ফের ভয়ভীতি সহ তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকীর অভিযোগ পাওয়া গেছে এরশাদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে এরশাদ সহ তার সহযোগী দুষ্কৃতকারীর অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে গত ১৯ মে সিলেট মেট্রোপলিন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। যাহা থানার সাধারণ ডায়রী নং ৮৭৯। থানার অফিসার ইনচার্জ সাধারণ ডায়রী প্রাপ্ত হয়ে উল্লেখিত ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দক্ষিণ সুরমা থানার অধীন, কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির টু-আইসি-কে নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা টু-আইসি শশধর বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতিক্রমে ঘটনার বিষয়ে ঘটনাস্থল সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্তে ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পেয়ে দন্ডবিধি আইনের ৫০৬(২) ধারা মতে ননএফআইআর গণ্যে একটি প্রসিকিউশন মামলা সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করেন। যাহা থানার ননএফআইআর নং- ৮৩, ২১ মে ২০২২ ইংরেজি
মামলার বিবাদী হলো- সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দিঘলবাক গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলীর ছেলে, ইউপি’র ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মাহমুদুল হাসান এরশাদ ও অজ্ঞাতনামা তার সহযোগিরা।
সাধারণ ডায়রী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়নের স্থানীয় দিঘলবাক গ্রামের হাজী ময়না মিয়ার ছেলে গৌছ উদ্দিন শিপনের বাড়িতে স্থাপিত একটি পাঞ্চেগানা মসজিদের ভূমির মালিকানা নিয়ে মাহমুদুল হাসান এরশাদ গংরা, গৌছ উদ্দিন শিপন গংদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা/ মোকদ্দমা হয়েছিল। এসব মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে তৎকালীন সময়ে দৈনিক সিলেটের দিনকাল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার। এরই জের হিসেবে গত ২০২১ইং সালের ২৮ জুলাই তারিখে সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালে অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এরশাদ মেম্বার ও তার সহযোগি শরীফ উদ্দিন। এ ঘটনায় সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার বাদী হয়ে গত ২০২১ ইং সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখে এরশাদ ও শরীফের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। যাহা বিয়ানীবাজার সিআর মামলা নং ১৫৯/২১ইং। দন্ডবিধি আইনের ৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩২৬/ ৫০৬(২) ধারা মতে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।
এই মামলার গত ১৯ মে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক ধার্যকৃত তারিখ ছিল। আদালতে বাদী-বিবাদী উভয় হাজিরা শেষে বাদী সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার বিকাল ৩টায় তার পত্রিকা অফিস দক্ষিণ সুরমাস্থ ভার্তখলা সামছুউদ্দিন মার্কেটে যাওয়ার সময় কীনব্রিজের দক্ষিণ মুখে পৌছা মাত্র পূর্ব থেকে অপেক্ষামান মামলার প্রধান আসামী এরশাদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা এরশাদের বিরুদ্ধে বাদীর দায়েরী মামলা তুলে নিতে এবং তার সকল অপকর্মের প্রকাশিত সংবাদগুলো প্রত্যাহার করার জন্য বলে। অন্যথায় তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকী প্রদান করে। এ সময় পথচারী কতেক লোকজন উপস্থিত থাকায় কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটাতে পারেনি তারা।
বাদী আরো জানান, তিনি স্বপরিবারে বিয়ানীবাজারে আসামীগণের পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বসবাস করতেন। ইতিমধ্যে বিবাদী এরশাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে “সিলেটের বিয়ানীবাজারে ধর্ষণের সহযোগী ইউপি সদস্য”, ধর্ষণ মামলায় বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউপি মেম্বার এরশাদ সহ দু’জন কারাগারে”, “বিয়ানীবাজারে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ-ধর্ষণ মামলায় এরশাদ মেম্বারসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানী পিছিয়ে ৩ অক্টোবর” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করায় বিবাদীগণ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিবাদীগণের ভয়ে বিয়ানীবাজার থেকে বর্তমানে সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন তিরাশী গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেও জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।