মোঃ সায়েস্তা মিয়া, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধিঃ
মাত্র দুই কিলোমিটার কাচা রাস্তা ৬ বছরেও পাকাকরণ সম্পন্ন হল না। ২ বার টেন্ডারের পর ও কাজ শেষ না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। শতবছরের দুর্ভোগ আর ভোগান্তি নিয়ে দুই ইউনিয়নের ( লামাকাজী ও খাজাঞ্চি) সংযোগ কাঁচা সড়কটি পাকাপোক্ত হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষের জীবনে আসতো আমূল-পরিবর্তন। পাকাকরণের প্রথম টেন্ডারের পর আশায় বুকবাঁধা এলাবাসীর গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন এই রাস্তাটি। খানাখন্দভরা পুকুরসম গর্তে কাদামাটি মাড়িয়ে প্রতিদিন স্কুল কলেজ, অফিস আদালতে গমন করছে সাধারণ মানুষ। অসহ্য কষ্ট দুর করতে জনপ্রতিনিধিদের জরুরি প্রদক্ষেপ ছাড়া উত্তরণ সম্ভব নয় এমন দাবী স্থানীয়দের। কবে শেষ হবে পাকাপোক্তের কাজ আর কবে শেষ হবে দুর্ভোগ, ভোগান্তি এই প্রশ্নের উত্তর নেই খোদ এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তাদের কাছেও।

জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতায় দীর্ঘ ৬ বছরেও রাস্তা পাকাকরণ কাজের শেষ হয়নি এমনটি এলাকাবাসীর দাবী। ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ কাজের কার্যাদেশ পেয়েছিল বি.এম ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কাজের শুরু করে ঠিকাদারি কর্তৃপক্ষ।
মেয়াদ শেষে শুরু করা কাজের পরবর্তী ধাপগুলি অদৃশ্য কারণে বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখার কারণে হাজার হাজার পথচারী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কারো মাথা ব্যথা না থাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠছে নিরবতার কারণ নিয়ে।
উত্তর বিশ্বনাথ রেললাইন থেকে রাজাগঞ্জ মুখি রাস্তায় বালু, কংক্রিট ফেলার সময় গড়িয়েছে ছয় বছর হল। মধ্য কান্দিগ্রাম হতে রাজাগঞ্জ বাজার পর্যন্ত বিট বালু ভরাট করে কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উধাও হওয়ার পর ২০২৫ সালে পুনরায় রি-টেন্ডার করে পাকার কাজটি শেষ করতে উদ্যোগ নেয় উপজেলা এলজিইডি অফিস। ২৬ সালে জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো কাজই করেনি। এতে কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ২য় মেয়াদে কাজের টেন্ডারের পর এলাকাবাসীর মনে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল তাতে আবারও গুড়েবালি পড়েছে।
মঙ্গলবার ১৩ আগস্ট সরজমিনে রাস্তাটি করুন অবস্থা দেখতে গেলে এলাকাবাসীর অনেকেই তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। কান্দিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক শাহীন মিয়া, বিশিষ্ট মুরব্বি ওয়াহাব আলী, জামাল মিয়া বলেন, অর্ধেক কাজ করে ফেলে রাখা রাস্তাটি এখন আমাদের গলার কাটা। একটু বৃষ্টি হলেই চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ছাত্র ছাত্রীরা কাদামাটি মাড়িয়ে স্কুল কলেজে যাওয়া আসা করে। রোগীদের যাতায়াতে কষ্টের শেষ নেই। অফিসিয়াল সকল সমস্যা দুর করে দ্রুত এলাকাবাসীর স্বার্থে রাস্তাটি পাকাকরণের ব্যবস্থা নিতে সিলেট ২ (বিশ্বনাথ -ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনার সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
এব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা উপ- সহকারী প্রকৌশলী অনুপ কুমার প্রামানিক জানান, ২য় মেয়াদে রাস্তাটি পাকাকরণ কাজের টেন্ডারের সময় শেষ হয়ে গিয়েছে গত জুন মাসে। এখন নতুন করে যদি টেন্ডার হয় তাহলে রাস্তাটি পাকা হবে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।