1. admin@asianexpress24.com : admin :
  2. asianexpress2420@gmail.com : shaista Miah : shaista Miah
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শিরোনাম
আজমিরীগঞ্জে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা লোহাগড়ায় স্কাউট ব্যাজ কোর্স -২০২৬ এর উদ্ধোধন বিশ্বনাথে দারুল উম্মাহ আইডিয়াল মাদ্রাসায় প্রবাসী গুণীজন সংবর্ধিত আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বিশ্বনাথ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ: জমি পরিদর্শনে এমপি লুনা সরকারের উন্নয়ন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে : এমপি লুনা বিশ্বনাথে বৃষ্টির জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে শত একর বোরো ধান : ক্ষতির মুখে কৃষক  ওয়ালটনের এসি কিনে ভাগ্য বদল; নরসিংদীর গৃহবধূ পেলেন ১০ লাখ টাকা নড়াইলে বস্তায় মিললো ৩৮ কেজি গাঁ/জা, নারী আ/ট/ক  লোহাগড়ায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত কোম্পানীগঞ্জে ভারতীয় মা/দক/সহ আ/ট/ক ২ বিশ্বনাথে ক্যা/ন্সা/র আ/ক্রা/ন্ত রোগীকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান  নড়াইলে কবি-সাহিত্যিকদের মাসিক সাহিত্যের আসর ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে শ্রমিক সংগঠনের মিছিল ও আলোচনা সভা লোহাগড়ায় নানা আয়োজনে মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়, ইসলামি সংস্কৃতি মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৪২৮ Time View

বাংলাদেশে জাতিসংঘের তথাকথিত মানবিক কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব, আসলে লুটেরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কৌশলেরই আধুনিক রূপ। এটি এমন একটি সুপরিকল্পিত নব্য ঔপনিবেশিক পদক্ষেপ, যার অন্তরালে লুকিয়ে আছে সর্বভৌমত্ব ধ্বংস, বিশ্বাস ও ইসলামী সংস্কৃতি মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র। স্বাদের অখণ্ড মুসলিম ভারতের ইতিহাসে আমরা দেখেছি, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ‘ব্যবসার’ নামে প্রবেশ করে কীভাবে সভ্যতার মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলেছিলো। আজ সেই পুরনো কৌশলেই তারা ফিরে এসেছে নতুন নামে এক নতুন মোড়কে। “মানবাধিকার” নামক নান্দনিক শব্দটিকে পণ্য করে, জাতিসংঘ নামক যে ভেলকিবাজ সংগঠনটি আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তার মূলেই রয়েছে ইসলামবিদ্বেষ। আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অবশিষ্টটুকু ধ্বংস করতে তারা কৌশলে মুখোশ পরে আসছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে যারা ইতিহাস ভুলে যায় তারাই হয় প্রথম শিকার।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তথা ক্ষণিকের “ইউনূস সরকারের” সম্মতিতে ঢাকায় OHCHR কার্যালয় স্থাপনের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি চপেটাঘাত। প্রস্তাবিত স্মারকে বলা হয়েছে, এই অফিসের প্রতিনিধিরা আমাদের দেশের আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে, যা আমাদের দেশের সংবিধানবিরোধী। তারপর এই অফিসের লোকেরা আমাদের দেশের নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করার ওপেন লাইসেন্স পাবে। ক্ষণীকের ইউনূস সরকার যেন আমাদের দেশের জণগণের আবেগের প্রতি এক নগ্ন নৃত্য প্রদর্শন করছেন! কেন? তা আদৌ আমাদের স্বাধীনচেতা জনগণের বোধগম্য নয়।

ইতিহাস সাক্ষী, ব্রিটিশরা “ব্যবসার নামে” প্রবেশ করে, তারপরবর্তী দুই শতাব্দীতে তারা গিলে খেয়েছিল আমাদের শাসন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঈমান। হাজার বছরের গৌরবময় মুসলিম ঐতিহ্যকে তারা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল। আজ জাতিসংঘ সেই একই পথেই চলছে; মানবতা তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং মুসলিম বিশ্বকে দুর্বল করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ভেলকিবাজ জাতিসংঘের মেকআপের সামান্য একটি স্তর সরালেই দেখতে পাবেন রক্ত, লাশ আর ধ্বংসস্তূপ। জাতিসংঘেরই একটি অঙ্গসংগঠন রিপোর্ট করে, গাজায় ২০২৩ সালে ৪১,০০০-এরও বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশু ইসরায়েলি গণহত্যায় শহীদ হন। জাতিসংঘ তখন কেবল “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করে তাদের দায়িত্ব শেষ মনে করে হাত গুটিয়ে নেয়। তাদের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বারবার যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোতে নাকচ হওয়া, OHCHR-এর চূড়ান্ত নিষ্ক্রিয়তা—সবই প্রমাণ করে, এই সংস্থা স্বাধীন মানবিক কোনো সংগঠন নয়, বরং পশ্চিমা আধিপত্যবাদী জোটের আজ্ঞাবহ এক চাকর মাত্র।

ভারতেও একই চিত্র। গুজরাট গণহত্যা, সিএএ-এনআরসি, দিল্লি দাঙ্গা, কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল—সবকিছুতেই মুসলমানদের উপর রাষ্ট্রীয় বর্বরতা চালানো হয়েছে, অথচ জাতিসংঘ চুপ! ইউরোপে হিজাব নিষিদ্ধ, কুরআন পোড়ানো, ইসলামবিরোধী আইন সব দেখে জাতিসংঘ কেবল ফাঁকা ‘ডে’ পালন করে; ইসলামোফোবিয়া বিরোধী দিবস নামক এক ভণ্ডামি।

২০০৬–২০২৩ পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৩৩% প্রস্তাব পাস করলেও সেগুলোর কোনো কার্যকর প্রয়োগ হয়নি। বিপরীতে ইরান, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, তদন্ত ও ICC রেফারেল হয়েছে। চীনের উইঘুর মুসলিম নিপীড়ন নিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই, কারণ চীন একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র। জাতিসংঘের নৈতিকতা নির্বাচনী ও সুবিধাবাদী, যার আসল লক্ষ্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা। তাদের এই নির্বাচনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম বিশ্বের জন্য চরম হতাশাজনক ও চক্রান্ত মূলক।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই কার্যালয় পূর্বে আমাদের কওমি মাদ্রাসা, শরিয়াহভিত্তিক পারিবারিক আইন, এবং ইসলামী সংস্কৃতিকে “উগ্রবাদ” আখ্যা দিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেছে। এখন তারা ঘাঁটি করে বসার পর নারীর পর্দাকে “ধর্মীয় নিপীড়ন”, কোরআন শিক্ষাকে “গোঁড়ামি”, শরিয়াহ আইনকে “প্রাচীনপন্থা” বিবরণ দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ নীতিকে চিত্রিত করবে। জাতিসংঘের এই অফিস ধর্ম, পরিবার, সমাজ ও আত্মপরিচয়ের বিরুদ্ধে এক দানবীয় ঘাঁটি। মনে রাখবেন, অর্থনীতিও রক্ষা পাবে না তাদের বিষাক্ত ছোবল থেকে। ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক আয়ের পোশাক শিল্পকে “শ্রমিক অধিকারের” নামে নিশানা করা হবে। পশ্চিমা দাতাগোষ্ঠী ও এনজিওরা চাপ সৃষ্টি করবে জিএসপি সুবিধা বাতিলের, বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ এবং আরও নানা শর্তারোপে। অর্থাৎ অর্থনীতিকে দুর্বল করে রাজনৈতিক দাসত্বে পরিণত করাই তাদের মূল লক্ষ্য হবে। যেরকম ইস্ট ইন্ডিয়ার সন্ত্রাসী ডাকুরা আমাদের মসলিন শিল্প ধ্বংস করেছিল ঠিক সেভাবে।

জাতিসংঘ আজ এক রাজনৈতিক অস্ত্র, যার ব্যবহার শুধু মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের উপর। তাদের লক্ষ্য আমাদের মতবাদের পরিবর্তন, সংস্কৃতির বিলুপ্তি আর ধর্মীয় পরিচয়ের মৃত্যু। আজ যদি আমরা চুপ থাকি, তবে পরবর্তী প্রজন্ম আর জানবে না ঈমান কী, স্বাধীনতা কাকে বলে, কিংবা আত্মমর্যাদার অর্থ কী। আমাদের মসজিদ, মাদ্রাসা, পরিবার এবং বিশ্বাস—সবই এক ‘মানবাধিকারিত’ সংস্কৃতির যজ্ঞে বলি হয়ে যাবে। তাই, বাংলাদেশের জনগণের সামনে এখন একটাই প্রশ্ন—আমরা কি আমাদের স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রস্তুত, নাকি আমরা আবার “বাণিজ্য কুঠি”-র নামে আত্মসমর্পণ করব?

এখনই সময় দাঁড়ানোর। এখনই সময় জাতিসংঘের মুখোশ ছিঁড়ে ফেলার। বাংলাদেশ কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, এটি এক বিশ্বাসের দুর্গ। এই দুর্গ ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্রে জাতিসংঘ আজ আমাদের দরজায়। কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি, আমাদের পূর্বপুরুষরা রক্ত দিয়ে প্রতিরোধ গড়েছিল। আজ আমাদের সেই রক্ত আবার ডাকছে। যদি আমরা থেমে যাই, যদি আমরা চুপ থাকি, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

লেখক:

মাহফুজ বিন মোবারকপুরী।

প্রাবন্ধিক, গবেষক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Theme Customized By BreakingNews