নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদি ইউনিয়নের জালালসী গ্রামের মৃত ইউসুফ মোল্যার ছেলে নুর জালাল মোল্যা (৬৫)-কে কুপিয়ে আহত করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে লোহাগড়া থানার ওসির নির্দেশে পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
ভুক্তভোগী নুর জালাল মোল্যা জানান, এ ঘটনায় তিনি একই ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার ছেলে মো. আশিক হোসেন, নুর মিয়ার ছেলে মো. রাজু মুসল্লী এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ মাছের ঘের থেকে কাজ শেষে নড়াইল শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হলে বিলের মধ্যে তিনটি মোটরসাইকেলে এসে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। এ সময় তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাতে কোপ দেয়। এতে তার ডান হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হয় এবং তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। পরে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার ভাই মঞ্জুর হোসেন মোল্যার সহযোগিতায় তিনি নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
আহত নুর জালাল মোল্যা বলেন, “অভিযুক্তদের সঙ্গে আমার পূর্ব কোনো বিরোধ ছিল না। তাদের আচরণ দেখে মনে হয়েছে তারা নেশাগ্রস্ত ছিল। নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা আমার ওপর হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয়। ১৬ জুলাই পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি ফেরত পেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি প্রশাসনের কাছে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য নলদি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমি ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।”
নলদি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আজিজ বলেন, “ওসির নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ১৬ জুলাই বাদী ফাঁড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি বুঝে নিয়েছেন।”
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে নলদি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকার কথা উল্লেখ করেন। তবে বাদীর বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ রয়েছে কি নাএ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব তিনি দেননি।
এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার হলেও এখন পর্যন্তকাউকে গ্রেপ্তার না করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।