بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ
আদরণীয় ও অগাধ শ্রদ্ধেয় মামা,
মাওলানা নূরুর রাহমান আল-আরাবী (হাফিজাহুল্লাহ),
এই চিঠির প্রতিটি শব্দ লেখা হচ্ছে এক কাঁপা হৃদয়ের কলমে, যা ভালোবাসার অশ্রু আর আফসোসের স্রোতে ধুয়ে যাচ্ছে। আপনার পবিত্র সফর শেষে দেশে ফেরা, আমাদের মাঝে আপনার সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি এবং বিদায়ের ক্ষণ—সব মিলিয়ে হৃদয় আজ এক অভূতপূর্ব আবেগে আন্দোলিত।
আমি যখন আপনাকে একটি সাধারণ চিঠি লিখেছিলাম, শুধু আমার হৃদয়ের কিছু অনুরাগী শব্দ পৌঁছাতে, জানতাম না সেই অল্প কথাগুলো আপনার পবিত্র হৃদয়ে এমন উথালপাথাল ঢেউ তুলবে।
আপনি আমাকে আপনার এতটা কাছে টেনে নিবেন, এত ভালোবাসা দিয়ে স্মরণ করবেন, এতবার আমাকে মনে রাখবেন—এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কুদরতি সংযোগেই এই সম্পর্কের জন্ম।
وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً
“আর তিনি তোমাদের মাঝে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া।” (সূরা রূম, আয়াত ২১)
আপনার মক্কা শরীফ ও মদীনায়ে মুনাওয়ারায় যিয়ারত, সেই সফরের পবিত্রতা, আর সেখান থেকে ফেরার পর আমাকে এক নজর দেখার আকাঙ্ক্ষা—সবকিছুই আমার হৃদয়ে এক অসীম সম্মানের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, হে মামা,
আপনার সেই কামনা পূরণে আমি ব্যর্থ হয়েছি। কিছুদিন পূর্বে এক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বাম হাতে গুরুতর আঘাত পাই। এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছি না। ঈদের আনন্দ, পথচলা, আপনাকে দেখা—সবই আজ সীমাবদ্ধ এক বিষাদময় স্থবিরতায়।
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি।” (সূরা ইনশিরাহ, আয়াত ৬)
আপনার সেই হৃদয়ছোঁয়া ভিডিওবার্তা আমি বহুবার শুনেছি। “তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করছে”—আপনার এই একটিমাত্র বাক্য আমার ভিতর এক গভীর কম্পন সৃষ্টি করেছে। যদি আগে জানতাম, তবে চোটের ব্যথা উপেক্ষা করেও ছুটে যেতাম, আপনার মোবারক দৃষ্টি ও দোয়ার আশীর্বাদ নিতে।
আজ আপনি ফিরছেন—আপনার পরিবারের দিকে। আমাদের মাঝে রেখে যাচ্ছেন দুঃখ, মুগ্ধতা ও ভালোবাসার এক অপূর্ব মিলনস্মৃতি। আমি আপনার জন্য কেবল আল্লাহ্র দরবারে এ দোয়া করতে পারি:
اللَّهُمَّ احْفَظْهُ وَبَارِكْ فِي عُمْرِهِ وَرِزْقِهِ وَصِحَّتِهِ، وَاجْعَلْهُ نُورًا لِأَهْلِ الْإِيمَانِ
“হে আল্লাহ! তাকে হেফাজত করুন, তার জীবন, রিজিক ও স্বাস্থ্যে বরকত দিন এবং ঈমানদারদের মাঝে তাকে আলো বানিয়ে দিন।”
মামা,
আপনি পবিত্র শহর থেকে ফিরে এসেছেন আল্লাহর রহমত ও বরকতের বারতা নিয়ে। আমি যেন তার কিছুটা ছায়ায় ভাগ বসাতে পারি—এটাই চেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যক্রমে সেটি হয়নি।
আপনি এখন দূরে চলে যাচ্ছেন, কিন্তু আপনি পৌঁছামাত্র আমাকে জানাবেন প্লিজ। আপনার সুস্থতা, নিরাপদ যাত্রা ও সুখময় জীবন কামনায় আমি দোয়ার হাত তুলে রেখেছি—প্রতি নামাজে, প্রতি নিশ্বাসে।
اللَّهُمَّ لَا تُفَرِّقْ بَيْنَنَا فِي الدُّنْيَا، وَاجْمَعْنَا فِي الْآخِرَةِ فِي فِرْدَوْسِكَ الْأَعْلَى
“হে আল্লাহ, আমাদের দুনিয়ায় বিচ্ছিন্ন করো না এবং আখিরাতে জান্নাতুল ফেরদাউসে একত্রিত করো।”
ভুলে যাবেন না মামা, একটি হৃদয় আজও আপনার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আছে। দূর থেকে প্রতিটি দোয়ার মাঝে আপনার নাম উচ্চারিত হয়… একটি হৃদয় এখনও আপনার প্রতীক্ষায় ধুকধুক করছে।
স্নেহভাজন ভাগিনা, হুসাইন বিন ইমদাদ
১২ জুন ২০২৫
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।