কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ব্যবস্থার স্থায়ী অনুমোদন প্রদান এবং সার্ভার জটিলতা নিরসন করে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে দেশজুড়ে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সুফল মিললেও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষ এর থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর অনলাইন সিস্টেমে স্থায়ী অনুমোদন না থাকা এবং সার্ভার ও কোড জটিলতার কারণে এখানকার খাজনা আদায় কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতারা। জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরের সময় অনলাইনে পরিশোধিত খাজনার দাখিলা (রসিদ) উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সিস্টেম বন্ধ থাকায় মানুষ খাজনা দিতে পারছেন না এবং দলিল রেজিস্ট্রিও করতে পারছেন না। পাশাপাশি খাজনা পরিশোধের হালনাগাদ রসিদ না থাকায় নামজারির (মিউটেশন) শত শত আবেদনও অনলাইনে ঝুলে রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ও দলিল লেখকেরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর অনলাইন কার্যক্রমের স্থায়ী অনুমোদন প্রদান এবং সার্ভার ও কোড জটিলতা দ্রুত নিরসন করে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শামস্ উদ্দিন শাহিন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহান উদ্দিন এর পরিচালনায় মানববন্ধনে অংশ নেন সিনিয়র দলিল লেখক মো. মোজাম্মেল হোসেন, সুমন আহমেদ, কামরুজ্জামান, আশরাফ আলী, শাহাব উদ্দিন, আমিরুল হক, বাবুল আহমদ, জিয়াউল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম তুহিন, সাহেদ আহমেদ, সাইফুর রহমান, সোলেমান আহমদ, তাজুল ইসলাম, আব্দুল কাদির রিটন, হানিফ আলী, মুজিবুর রহমান, সাজ্জাদ মিয়া, মুখলিছুর রহমান, মদরিছ আলী প্রমুখ।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে খাজনা পরিশোধের দাখিলা ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। বর্তমানে সার্ভার ও টেকনিক্যাল জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার ওপর। জনভোগান্তি কমাতে দ্রুত এই প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অফিসে আগে যেখানে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি দলিল রেজিস্ট্রি হতো, সেখানে এখন তা কমে ১০টিরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় উন্নয়নে এর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি দলিল নিবন্ধন থেকে স্থানীয় সরকার ৩ শতাংশ কর পায়। রেজিস্ট্রি কমে যাওয়ায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিলে বড় ধরনের ঘাটতি (ফান্ড শর্টেজ) দেখা দিচ্ছে। এমনকি অনেক প্রবাসী জরুরি ও সংক্ষিপ্ত ছুটিতে দেশে এসেও জমি রেজিস্ট্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে প্রবাসে ফিরে যাচ্ছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার জানান, বর্তমানে উপজেলায় দুটি তহশিল অফিস রয়েছে। কিন্তু একটিরও প্রশাসনিক অনুমোদন নেই। দুটিই ভার্চুয়াল। নামজারীসহ কিছু কার্যক্রম ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে হয়। এখানে প্রশাসনিক অনুমোদিত কোনো স্থায়ী জনবল নেই। কোন বরাদ্দও নেই।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অনুরূপ সমস্যা হয়েছিল। নিকটবর্তী অনুমোদিত তহশিল অফিসের সাথে কানেক্ট করে সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। ভৌগোলিক বা কারিগরি কারণে কোম্পানীগঞ্জে তা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার স্থায়ী অনুমোদন ও কোড সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সার্ভারের ত্রুটি নিরসনে দ্রুত কাজ চলছে। আজকেও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এর একটি স্থায়ী সমাধান মিলবে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।