জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া(নড়াইল)প্রতিনিধিঃ
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নড়াইলের লোহাগড়ায় জমে উঠেছে পশুর হাট। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশীয় গরু-ছাগল নিয়ে বিক্রেতারা আসছেন এসব হাটে। বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর পশু মোটাতাজা করায় অধিক খরচ হলেও গত বছরের চেয়ে কম দাম চাওয়া হচ্ছে পশুর। এরপরও ক্রেতারা দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। এতে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বিক্রেতারা চড়া দাম হাঁকিয়ে বসে রয়েছেন। তাই সামর্থ অনুযায়ী গরু-ছাগল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। লোহাগড়া উপজেলার লোহাগড়া, শিয়রবর, লাহুড়িয়া, দিঘলিয়া পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি পশুর হাটে বিপুল পরিমাণ গরু, মহিষ, ও ছাগল বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা।
এছাড়া হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে বেশিরভাগ ক্রেতা-বিক্রেতাদের। বিক্রেতা মো. এনামুল শেখ, বাদশা মোল্যা, আসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর দেশীয় পদ্ধতিতে আমরা গরু, ছাগল মোটাতাজা করতে অনেক টাকা খরচ করেছি। তাই কোরবানির হাটে পশুগুলোর দাম একটু বেশি রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি গরুর দাম দেড় লাখ চাই তাহলে ক্রেতারা তার দাম বলেন ৮০-৯০ হাজার, আর যদি এক লাখ টাকা চাই তাহলে ক্রেতারা বলেন ৬০-৭০ হাজার। কোনো কোনো ক্রেতা দাম বেশি দিয়ে কিনে নেন। আবার কিছু ক্রেতা দাম শুনে চলে যান।
তারা আরো জানান, বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলে তাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
হাটে গরু কিনতে আসা উপজেলার ধানাইড় গ্র্রামের খন্দকার আহাদ হোসেন বিপ্লব জানান, হাটে গরু প্রচুর কিন্তু দাম বেশি। তার পরও কোরবানির গরু কিনতেই হবে।
গরু কিনতে আসা আর এক ক্রেতা মরিচ পাশা গ্রামের মো. মতিয়ার রহমান জানান, ঈদের শেষ সময়ে গরুর একটু দাম থাকবেই সেটা আমরাও জানি। তারপরও তুলনামূলকভাবে হাটে গরুর দাম কিছুটা বেশি।
ক্রেতা মো. লিন্টু ঠাকুর, মো. গোলজার মৃধা, মো. সাহিদুর রহমান, জানান, কোরবানির পশু কেনার জন্য হাটে এসেছেন। কিন্তু বিক্রেতারা গত বছরের চেয়ে এ বছর পশুর দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন। ফলে সামর্থ অনুযায়ী, পশু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, আরও এক-দুইদিন হাটে যাবো। যদি দাম কিছুটা কমে তাহলে ভালো, নাহলে বেশি দামেই কিনতে হবে।
লোহাগড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসক জিন্নু রাইন জানান, উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ১টি পৌরসভায় স্থায়ী, অস্থায়ী ৬ টি হাট রয়েছে। কোরবানির পশুর হাটে উপজেলায় ২ টি ভেটেনারি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। কেউ অবৈধ উপায়ে মোটাতাজা করা ও অসুস্থ গরু নিয়ে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে লোহাগড়া উপজেলায় গরুর হাটের আইন শৃঙ্খলা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য্ লোহাগড়া পুলিশ প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আবু হেনা মিলনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। আশা করছি কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ঘটবে না।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।