বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধিঃ
সিলেটের বিশ্বনাথে নিখোঁজের দুইদিন পর বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং সকাল ৬ ঘটিকায় সময় মৃতদেহটি দৌলতপুর ইউনিয়নের বৈরাগী বাজার সিংগেরকাছ রাস্তার শেখেরগাঁও মার্কেটের পার্শ্বে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে জানালে- পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। মৃত মোহাম্মদ জইন উল্লাহ (৬৪) উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পূর্বগাঁও (সিংগেরকাছ) গ্রামের আলী বক্স ও তেরাবান বিবি দম্পতির পুত্র।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত মোহাম্মদ জইন উল্লাহ ১১ জানুয়ারি রবিবার ২৬ ইং তারিখে বিকেল থেকে নিখোঁজ হন। এর পর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখোঁজি করে তার কোন সন্ধান পান নাই। নিখোঁজের পরদিন মৃত জইন উল্লাহ পুত্র মোহাম্মদ আসকির মিয়ার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ম্যানজার সাব্বির আহমদ এর মোবাইল ফোনে ২৫ লক্ষ টাকার মুক্তিপণ চেয়ে একটি ভার্চ্যুয়াল নাম্বার থেকে ফোনকল আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা ফোনকল আসা ভার্চ্যুয়াল নাম্বারে যোগাযোগ করলে নাম্বারটি বন্ধ পান। নিহত জইন উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আসকির মিয়ার স্ত্রী পুত্রবধু আয়শা আক্তার বিউটি জানান, আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে ফার্ম ও খামার সংক্রান্ত ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার সাথে এলাকার প্রভাবশালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমির আলী ও মেম্বার গোলাম হোসেনের পূর্বশত্রুতা রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় আমার স্বামীর কাছে চাঁদা দাবী করেছে, বাকবিতন্ডা, শারিরীক লাঞ্ছণার ঘটনাও ঘটিয়েছে। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েও আসছিল। এমনকি তারা অজ্ঞাত নাম্বার থেকে গতকাল আমাদের কাছে ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে ফোন আসা নাম্বারটি বন্ধ পাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার স্বামীর সাথে শত্রুতার জের ধরে তারা এই হত্যা কান্ড ঘটিয়েছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার হুমকির মুখে আছি। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।এ নিয়ে প্রতিনিয়ত আমি আমার সন্তান ও পরিবার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছি।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।