মো. সায়েস্তা মিয়া, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধিঃ
চরম খরার কবলে পড়েছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রোপা বোরোধানে মাঠ। খাল-বিলে পানি না থাকায় সেচের ব্যবস্থা নেই। উপজেলার কোনো হাওয়রে নেই ভূগর্ভস্থ সেচ ব্যবস্থা। বৃষ্টি না হওয়ায় জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বোরো মৌসুম শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার আহাজারি হাজার হাজার কৃষকের। অনাবৃষ্টির কারণে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হওয়ার শংকা করছেন কৃষকেরা।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে গত বছরের তুলনায় এবছর বোরোধান আবাদের মাত্রা বেড়েছে ২৫ হেক্টর। ৩২ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হবে না এমন বক্তব্য তুলে ধরছেন কৃষকেরা। বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা তথ্য বলছে আশংকা সত্যি হবে। অনাবৃষ্টিতে ধানের চারা জ্বলে গেছে বিভিন্ন হাওরের আবাদ জমিতে।
এবছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে বোরোধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ হাজার ৩শত হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৩০৪ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হেক্টর বেশি। বিশ্বনাথ কৃষি অফিস এ বছর উপজেলার বোরো আবাদে জড়িত ৪শত কৃষকের মাঝে ২ কেজি করে বোরো বীজ, ৪২০ জন কৃষককে ৫ কেজি ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করেছে।
উপজেলার হাওরগুলোতে আবাদকৃত বোরোধানের মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান ৮৯, ব্রি ৯২, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৪ ও ব্রি ১০৫। হাইব্রিড এসএল-৮এইচ, হিরা, জাগরণ, শক্তি, যুবরাজ, গোল্ডেন-১, তেজ, এসিআই -১ ও এসিআই -২জাতের বোরোধান। রয়েছে স্থানীয় জাতের রোপা বোরো ধান।
চলতি বছরে রোপা বোরোধানে রোগবালাই না থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকরা। তবে যান্ত্রিক খরচাপাতি, বাড়তি সারের দাম ও শ্রমিক সংকট থাকায় বোরো উৎপাদনে ব্যয়ভার বাড়ছে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর এমন অভিযোগ স্থানীয় প্রান্তিক, যৌথ ও বর্গাচাষি কৃষকদের। দ্রুত বৃষ্টিপাত না হলে লোকসানে পড়বেন কৃষকরা এমন আশংকার কথাও জানান তাঁরা।
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। যদিও অনাবৃষ্টির কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হওয়ার শংকা রয়েছে। এই সপ্তাহে বৃষ্টি হলে সমস্যা কেটে যাবে। সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থা ও বালাই দমন ব্যবস্থাপনা সঠিক নিয়মে করতে কৃষকদের পরামর্শ দেন তিনি।