নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর শেখেরচর বাজারে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দোকান ঘর দখল, মালামাল লুটপাট ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে আইনি প্রতিকার ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাধবদী থানার ভগীরথপুর গ্রামের মো: শাহীন হোসেন ভূঁইয়ার মেয়ে সাদিকা আক্তার সাম্মী।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, নরসিংদীর শেখেরচর বাজারে আর.এস ২৩০ খতিয়ানের ১৬০৮ দাগের ০১৯৪ সহস্রাংশ জমিতে পৈতৃক সূত্রে মালিক হয়ে মো: শাহীন হোসেন ভূঁইয়া একটি তিনতলা বিশিষ্ট দোকান ঘর নির্মাণ করেন (২৩০/১ জমাভাগ খতিয়ান)। পরবর্তীতে আত্মীয়তার সুবাদে মো: শহীদুল্লাহ বাহার (পিতা: মৃত আলহাজ্ব মহীউদ্দীন মিয়া) নামের এক ব্যক্তি সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে একটি আম-মোক্তারনামা দলিল বানিয়ে নেন। তবে জমির দখল, ভাড়া আদায় ও চুক্তির ক্ষমতা শাহীন হোসেনের কাছেই রক্ষিত ছিল।
উক্ত দোকানে বাংলা ১৪৩৫ সাল থেকে ব্যবসায়ী সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, সমীর কুমার সাহা, দীপক কুমার সাহা, মো: গোলাপ মিয়া ও দোলন ভূঁইয়া ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
শহীদুল্লাহ বাহার বেআইনিভাবে দোকান জমি বিক্রি করার চেষ্টা করলে শাহীন হোসেন ২০১৯ সালে নরসিংদী সদর সহকারী জজ আদালতে আম-মোক্তারনামা দলিল বাতিলের মামলা (দে: মো: নং- ২০৭/১৯) দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে (দে: ১২২/২০২১) সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত উক্ত সম্পত্তিতে ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও শহীদুল্লাহ বাহার ও তাঁর স্ত্রী কোহিনুর আক্তার বেআইনিভাবে শেখেরচর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি বোরহান উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন এবং সমিতির বাইরের লোক মোশারফ হোসেনকে (শিবপুর) সঙ্গে নিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি কোহিনুর আক্তার ও তাঁর স্বামী প্রভাব খাটিয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে শাহীন হোসেনকে গ্রেপ্তার করিয়ে জেলহাজতে পাঠান। এরপর ভুক্তভোগী পরিবারের ভাড়াটিয়াদের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ, গত ৩১/০৮/২০২৪ইং তারিখ (লিখিত কপি অনুযায়ী ৩১/০৮/২৬ইং) রাত আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকার সময় ভাড়াটিয়া গোলাপ মিয়া, সমীর সাহা ও দোলন ভূঁইয়ার দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা শাড়ী, থ্রি-পিস ও লুঙ্গিসহ ব্যাপক মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাদিকা আক্তার সাম্মী অভিযোগ করেন, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জানানো হলেও পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আইনি সহায়তা বা প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে দোকান মালিকের পরিবার এবং ভাড়াটিয়ারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং আদালতের নির্দেশ মেনে সম্পত্তি রক্ষার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও জেলা বিচার বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।