জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধিঃ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকায় সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্য এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) নড়াইল জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, খুলনার তেরোখাদা উপজেলার নদীয়ার চর মধ্যপাড়া গ্রামের জাকির মোল্যা ওরফে জেকের আলী (৪৮), নড়াইলের নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেন তালুকদার ওরফে কাটাপ্পা (৫৪), কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামের পারভেজ মৃধা ওরফে দারোগা (৩৬), একই উপজেলার শুক্তগ্রামের মফিজ খাঁ (৩৮), খুলনার তেরোখাদা উপজেলার নালিয়াচর গ্রামের দীন ইসলাম মোল্যা (৪২) এবং খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতী কামারপাড়া গ্রামের স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ জুন দিবাগত রাতে নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের পাখিমারা (মধ্যপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা সালাহ উদ্দীন খাঁনের বাড়িতে অস্ত্রধারী ডাকাত দল হানা দেয়। তারা সালাহ উদ্দীন খাঁন ও তার ছেলে আশিকুর রহমানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নড়াগাতী থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিসিআইসি ও নড়াগাতী থানা-পুলিশ। পরে গত ২ থেকে ৪ জুলাই নড়াইল, খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির পাঁচ সদস্য এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ওই ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে নড়াইল, খুলনা, গোপালগঞ্জসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি করে আসছিলেন বলেও জানিয়েছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আগেও ডাকাতি ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। জাকির মোল্যা ওরফে জেকের আলীর বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও তিনটি চুরির, পারভেজ মৃধা ওরফে দারোগার বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতি ও একটি চুরির, জাকির হোসেন তালুকদার ওরফে কাটাপ্পার বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতি ও একটি চুরির এবং মফিজ খাঁর বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও একটি চুরির মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের মাধ্যমে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামালের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।