নরসিংদী প্রতিনিধি:
জিতপারপুর গ্রামে নিরীহ ও অসহায় কৃষক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জোরপূর্বক আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো কয়েকজন কৃষক ও গ্রামবাসীকে মিথ্যা মামলা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ—শামীম সরকার, ফারুক মিয়া, মেহেদীসহ আরও কয়েকজনকে ভিত্তিহীন অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তাদের পরিবার দাবি করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ ও স্বল্প আয়ের পেশায় যুক্ত থেকে সৎভাবে জীবনযাপন করে আসছেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় এখন তারা অপপ্রচার ও আইনি জটিলতার শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আক্তার, ইকবাল, মরসিদ, আনিছুল, মহিউদ্দিন ও বাশা নামের কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদা আদায়সহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই শুরু হয় চাপ প্রয়োগ, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং প্রয়োজনে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা। গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, “আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। কিন্তু একটি চক্র নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নিরীহ মানুষদের টার্গেট করছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে সম্মানহানি ঘটানো হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণের আগেই সংবাদ আকারে বিষয়গুলো উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
গ্রামের সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে নিরীহ মানুষের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
বর্তমানে গ্রামে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন।