1. admin@asianexpress24.com : admin :
  2. asianexpress2420@gmail.com : shaista Miah : shaista Miah
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শিরোনাম
রাজারহাটে পানিবন্দি মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ কুড়িগ্রামে কমছে বন্যার পানি:দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ লোহাগড়া ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক কুড়িগ্রামে র‍্যাবের মহাপরিচালকের বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে ত্রান বিতরণ বন্যায় বিশ্বনাথে ৮১ কোটি টাকার ক্ষতি  কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ লোহাগড়ায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্ধোধন রৌমারীতে ৪৮বোতল ফেন্সিডিল সহ গ্রেফতার-১ ফুলবাড়ীতে দুই কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেফতার নওগাঁয় ৩ মাস ধরে গৃহবন্ধী অসহায় এনতাজ আলীর পরিবার, চলাচল করেন পুকুরে সাঁতার কেটে লোহাগড়ায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী ইউনিয়নে পানি বন্দি একশত পরিবারের মাঝে চাউল বিতরন বৈরাগী বাজারে জমজমাট নৌকার হাট: বন্যা এলে নৌকার কদর বাড়ে ভারতের উত্তর প্রদেশে ১ দিনে বজ্রপাতে মৃত-৩৮ ফুলবাড়ীতে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও প্রশ্নপত্র দিয়ে ষাণ্মাষিক সামষ্টিক মূল্যায়ণ পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ

সুনামগঞ্জে পাহাড়ী ঢলের পানি অব্যাহত:- ঝুকিতে বোরো ফসল

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ২১৮ Time View

রুহুল আমীন তালুকদার, সিলেট :
সুনামগঞ্জে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুরমা, যাদুকাটা, কুশিয়ারাসহ সকল জেলার সকল নদী গুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে দেখার হাওর সহ জেলার সকল হাওরের বোরো ফসল।

ফসল রক্ষার্থে কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে দিনরাত হাওর রক্ষা বাঁধ মেরামত করে যাচ্ছেন।
সঠিক সময়ে হাওরের বাঁধ মেরামত না করায় অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধ ভেঙ্গে একের পর এক হাওরে পানি প্রবেশ করছে। এভাবে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকলে বোরো ফসল হানীর শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
হাওর অঞ্চলের কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে দিনরাত বাঁধ মেরামতে কাজ করে যাচ্ছেন। জীবন জীবিকার সন্ধিক্ষণে বাঁধ রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাঁধ মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের পাশাপাশি সর্বসাধারণকে এগিয়ে আসতে আহবান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন জাহাঙ্গীর আলম।
এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি ৫.৯৯ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছে। বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থায় থাকা এই পানি আরও বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে বলে আগামী ২৪ ঘন্টা সময়কে সুনামগঞ্জের জন্য বিপজ্জনক সময় উল্লেখ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল শনিবার সকালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বাঁধ ভেঙে নজরখালি টাঙ্গুয়ার হাওরে ঢুকতে শুরু করে। এতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ৩০০০ হাজার একর জমির ফসল।
সোমবার বিকেলে শাল্লা উপজেলার দাঁড়াইন নদীর পানি উপছে বাঘার হাওরে প্রায় ৫০০ একর জমির ফসল তলিয়ে যায়। পানি উপছে তলিয়ে গেছে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের একটি হাওর, সদর উপজেলার ছোট কাংলার হাওরসহ ছাতক উপজেলার কয়েকটি ছোট ছোট হাওরের ফসল পাহারি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে ঢলের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানির চাপে জেলার শান্তিগঞ্জ, দিরাই, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অনেকগুলো বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের পাউবোর তুফানখালি বাঁধ, ফাটল দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে বরাম হাওরের বোরো ফসল। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের আনন্দনগর বাঁধ দেবে গেছে। এই বাঁধ নতুন করে সংস্কার করছেন পিআইসির লোকজন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার শালদিকা, রাঙ্গামাটি, বেদাখালিসহ একাধিক বাঁধে ফাটল দেখা দেয়ায় সোমবার রাতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্ট গ্রামের চাষীরা। বিশ্বমম্ভরপুর উপজেলার হরিমন ভাঙ্গা ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে করচার হাওরের প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল।
এছাড়াও জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও জগন্নাথপুর উপজেলার অনেক বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এসব বাঁধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট উপজেলার মসজিদের মাইকে মাইকিং করে বাঁধ মানুষকে আহবান করা হচ্ছে। জীবন জীবিকার একমাত্র ফসল ঘরে তুলা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় সময় পার করছেন হাওর পাড়ের কৃষককুল।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের পাড়ের কৃষক রয়েল আহমদ বলেন, গত ৩দিন ধরে বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছি। স্থানীয় কৃষকরা বাঁধ পাহাড়া দিচ্ছেন। বাঁধ রক্ষায় দিনরাত কাজ করছেন। যেকোনো সময় ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে।
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর পাড়ের কৃষক ময়না মিয়া বলেন, সময় মতো বাঁেধর কাজ শেষ না হওয়ায় আজ এই অবস্থা। বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি ডুবলে আমরা যাবো কোথায়। ছেলেমেয়ে নিয়ে কি করে বাঁচবো। হাওরের ফসল হানি হলে আমাদের কে দেখবে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু বাবুল বলেন, নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শুরু ও শেষ না হওয়ায় আজ হাওরের এমন দশা। অনিয়ম দুর্নীতির মানুষের ফসল ঝুঁকিতে রয়েছে। যে ভাবে নদীর পানি বাড়ছে এটি অব্যাহত থাকলে হাওর এলাকায় মানবিক বিপর্জয় দেখা দিবে।
আগামী ২৪ ঘন্টাকে সুনামগঞ্জের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম বলেন, পানি বাড়লে পরিস্থিতি কঠিন দিকে যাবে। মসজিদের মাইকে মাইকিং করে বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সুনামগঞ্জর ধর্মপাশা উপজেলার কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ পরিদর্শন করে ড. মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, ফসল রক্ষায় স্থানীয় কৃষকদের সাথে নিয়ে বাঁধে প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৫০০ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হয়েছে। যদি পানি ধীরে ধীরে নেমে যায় তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমবে। আর যদি পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তাহলে আমরা বিপদে পড়ে যাবো।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews