রাকিব হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার রসুলপুর হাটে গাছের চারা বিক্রির হাট বসে। সপ্তাহে দুই দিন রোববার ও বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন নার্সারীর মালিকেরা নানা ধরণের গাছের চারা বিক্রি করে থাকেন। উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দেয়াল ঘেষে বসে গাছ বিক্রির হাট। প্রতি বছরের বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন ৬ মাস ব্যাপী চলে গাছের চারা বিক্রি। তবে, বর্ষা মৌসুমে সর্বাধিক গাছের চারা বিক্রি হয় বলে জানান নার্সারীর মালিকেরা।
জানা গেছে, গাছ বিক্রির এ হাটে ১৫ জন নার্সারী মালিক গাছের চারা বিক্রি করেন। প্রতি বছর একেক জন গাছ বিক্রেতা/ নার্সারী মালিক প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার গাছের চারা বিক্রি করে থাকেন। প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকার গাছের চারা বিক্রি হয়। ফলজ, বনজ, ঔষুধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের লাগানোর/ রোপনের উপযুক্ত গাছের চারা বিক্রি করা হয়। বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গাছের চারা বিক্রির হার কমেছে বলেন গাছ বিক্রেতারা।
উপজেলার ললিতারহাট বকুলতলা গ্রাম থেকে আসা গাছ ক্রেতা (বৃহস্পতিবার- ২৯ জুলাই) শহিদুল্লাহ বলেন, চারটি নারিকেল গাছের চারা ৫ শ টাকা দিয়ে কিনেছি। এ গাছের হাট থেকে ভালো গাছের চারা পাওয়া যায়। পৌরসভা এলাকার গাছ ক্রেতা সেকেন্দার আলী বলেন, ইউক্যালিপ্টাস, কাঠালসহ ৮ টি গাছের চারা কিনলাম/ ক্রয় করলাম। গাছ গুলো ভালো। রোপন করলে বেড়ে উঠবে সমস্যা হবেনা- মনে হচ্ছে।
পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের সুজন নার্সারীর মালিক আবুল হোসেন বলেন, গাছ বিক্রির এ হাটে মেহগনি, আম, জাম, কাঠাল, নারকেলসহ বিভিন্ন গাছের চারা বিক্রি করি। প্রায় ১০ বছর থেকে এই স্থানে গাছ বিক্রি করি। একই ইউনিয়নের ঘোনাবাড়ি এলাকার মামুন নার্সারীর মালিক ইয়াকুব আলী বলেন, নার্সারী করার ব্যাপারে প্রায় ২০ বছর আগে রাজশাহী চাপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। দেখে এসে নার্সারী গড়ে তুলি। জগতবেড় ইউনিয়নের মুন্সিরহাট গ্রামের দুলালী নার্সারীর মালিক দুলাল হোসেন দুলু জানান, পরিবারের স্ত্রী- সন্তান সবাই গাছের চারা তৈরিতে পরিশ্রম করি। অনেক যত্ন করতে হয়। বিভিন্ন প্রকার ফুলসহ ফলের গাছের চারা বিক্রি করে সংসার চালাই।
পাটগ্রাম উপজেলা নার্সারী মালিক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, উপজেলার সব ইউনিয়নে নার্সারী আছে। অতি বৃষ্টি, রোদ আর বন্যায় প্রতিবছর গাছের চারা নষ্ট হয়ে অনেক নার্সারীর মালিক ক্ষতিগ্রস্থ। বনবিভাগে অনেকবার সাহায্যের আবেদন করেছি কোনো কাজ হয় নাই। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আমরা খুব সমস্যায় রয়েছি। মানুষ বাজারে কম আসায় গাছ বিক্রি কম হয়।
উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গাফ্ফার বলেন, পাটগ্রাম উপজেলায় ছোট- বড় মিলে প্রায় ২৫ টি নার্সারী আছে। বাণিজ্যিক প্রায় ১০- ১৫ টার মত নার্সারী আছে। কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি লালমনিরহাট থেকে নিবন্ধন ভুক্ত কোনো নার্সারী এখানে নেই। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সহযোগীতা আসলে নিবন্ধনভুক্তরা অগ্রাধিকার পাবে তবে, এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগীতা আসেনি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্থ নার্সারীর বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। সুধী জনের মতামত, বর্তমান পরিবেশ রক্ষায় গাছ অনন্য ভুমিকা পালন করে হোক সেটা বানিজ্যিক কিংবা বিনামূল্যে, পাটগ্রাম উপজেলা সবুজের সমারোহে ভরিয়ে তুলতে পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন নার্সারির মালিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।