এন আহমদ সেলিম, যুক্তরাজ্য থেকে:
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুল হাই জিহাদী এই সমাজ এই জাতির জন্য এক নেয়ামক। তাই তার সুস্থতা সহ দীর্ঘায়ু কামনা করি মহান আল্লাহর দরবারে ।
সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের কান্দিগ্রামে ১৯৫৭ সালে জন্ম গ্রহণকারী একজন কৃতিমান ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুল হাই জেহাদী কুড়ি বছর ধরেই ফুসফুস ও হৃদরোগে ভোগছেন।
ইতিমধ্যে বিগত ২০১৫ সালে একবার মৃত্যু সংবাদ ও ছড়িয়েছিল তাঁর । আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সুস্থ হয়ে উঠেন এবং অকল্পনীয় ভাবে এই দেশ এই জাতির ও ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত আছেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বলতে গেলে আবার তিনি শয্যাশায়ী। গত তিন দিন ধরে একেবারেই নির্বাক বলে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে। ২০১৫ সালে ভারতের মাদ্রাজে চিকিৎসা নিয়ে আসার পর থেকে মোটামোটি সুস্থই ছিলেন। ২০১৮ সালে পুনঃরায় চেক আপের জন্য ভারতে যাওয়ার কথা থাকলেও আর যাওয়া হয়নি।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ন্যায্য দাবী দাওয়া আদায়ের ব্যাপারে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, নীতিবান সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক মাওলানা আব্দুল হাই জেহাদী একজন ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষিত আলীম হলেও তার বহুমুখী প্রতিভা ও যোগ্যতা এবং দক্ষতা তাকে দেশের শীর্ষ সৃজনশীল বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় নিয়ে গেছে। সংবাদিক, সম্পাদক, গবেষক, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবীর দিকদর্শকদের তালিকায় তার স্থান উজ্জ্বলতর।
শুধু ওয়াজ, তাফসীরের মাঠে নয়, খতিবের মিম্বরেও নয় কলমের লেখনিতে ও সীমাবদ্ধ নয়। মাঠের যে কোন নীতিগত আন্দোলন সংগ্রামেও তার সক্রিয়তা ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয় এলাকার বেশ কিছু উন্নয়ন মূলক ন্যায্য দাবী দাওয়া আদায়ে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা আমরা ছোট বেলা থেকেই প্রত্যক্ষ করেছি এসেছি। আর এ জন্য তাকে অনেক ত্যাগ ও চড়া মাশুল দিতে হয়েছে। অনেকেই আমরা তাকে বে-মালুম ভূলে গেছি । আমাদের কি তাঁর জন্য কিছুই করার নেই?
মাওলানা জেহাদী তার নিজ এলাকা ছাড়া ও সিলেট শহরের চারটি মসজিদে একাধারে ত্রিশ বছর খতীব ও সাপ্তাহিক তাফসীর করেছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওয়াজ তাফসীর ও সভা সেমিনারে যোগ দিয়েছেন ।
প্রায় অর্ধশতাধিক মুল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাস ও (চলমান) তাফসীরে উন্মুল কোরআন তার কালজয়ী রচনা।
১৯৭৮ থেকে গত দু বছর আগে পর্যন্ত চার হাজারের ও বেশী কলাম ও গবেষণা মূলক প্রবন্ধ নিবন্ধ দেশি বিদেশী পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছে তাঁর । তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন ভাষ্যকার ও ছিলেন। দৈনিক বাংলার বানী, দৈনিক আজাদী, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক জনতা, দৈনিক মিল্লাত, দৈনিক খবর, দৈনিক বাংলা বাজার, দৈনিক ইত্তেসাল, দৈনিক জালালাবাদী, দৈনিক সংলাপ, দৈনিক জৈন্তাবার্তা পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেছেন তিনি।
১৫ ই আগষ্ট ট্রাজেডি কারবালাকে ও হার মানায়।
লুচ্চা কবি রাজার চেয়ে শাড়ীর আচলেই আরাম।
নারী নেতৃত্ব বিষয়ে ” হে ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া জাতীকে নিয়ে যাচ্ছ কোথায় !!? রাজপুত্রের রাজতন্ত্রের হাওয়া প্রসাদ উভে যাবে।
খন্দকার মুশতাক এর প্রেতাত্মা আবারো সক্রিয়।
সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী, পূর্ব তিমুর নাকি ইসরাইলের পূর্বাভাস? !
রাম- বামের ঘষাঘষিতে কি আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে যাবে? !
ধর্ষণ সেঞ্চুরি !! পতনের পদধ্বনী। এসব ছিল তার সাহসী কলাম, ও সম্পাদকীয়।
দু যুগের ও বেশী সময় ধরে দৈনিক সিলেট বানীর সহ সম্পাদক এবং অনলাইন নাগরিকবার্তা’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইতিমধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মারকগ্রন্থ সহ দশটি দেশী ও তিনটি বিদেশী ডকুমেন্টারী বইয়ে তার জীবনী ছাপা হয়েছে।
আত্মপ্রচার বিমুখ এই প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব হামেশাই নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে আপোষহীন । যদ্দরুন সকল দলীয় সরকারের আমলেই তিনি হুলিয়ার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ ৪৭/৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ফসল হিসেবে তার অজস্র ছাত্র ছাত্রী রয়েছেন। সরকারী ও বেসরকারী পর্যায় থেকে অনেক লোভনীয় ও মোহনীয় প্রস্তাব ও পেয়েছেন বলে আমরা জানী। কিন্তু নীতি-নৈতিকতাকে কোন দলের তাবেদারীতে ব্যয় না করে ইসলামের সঠিক আদর্শের তরে ব্যয় করতেই দৃঢ় প্রত্যয়ী এই মর্দে মুজাহিদ এখন নানা রোগে ভোগে শয্যাশায়ী । তবু সুযোগ পেলেই তার কলম চলে তির্যক গতীতে।
আমরা তার সু- চিকিৎসা সহ সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনা করি । আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের মাঝে তাকে বাঁচিয়ে রাখেন। আমিন ।